জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ডিনের দায়িত্ব নিয়েছেন উপাচার্য নিজেই। গত ২১ নভেম্বর রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হাসিবুর রসীদকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বরের অফিস আদেশের পর জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ১৯ জন শিক্ষক রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগকারী শিক্ষকগণের মধ্যে ৮ জন সহযোগী অধ্যাপক। তারা জানান, এই অনুষদের কর্মরত শিক্ষকদের মাঝে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই।এই অনুষদের দুই বিভাগের মধ্যে কেউ অধ্যাপক পদে কর্মরত নেই। এর আগে দুই বিভাগের অধ্যাপকদের মধ্যে থেকে অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। যেহেতু অনুষদের শিক্ষকদের মাঝে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে কোন রকম সংশয় নেই, সেহেতু অনুষদভূক্ত শিক্ষকগণের মধ্যে থেকেই ডিনের দায়িত্ব প্রদান করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়েই বর্তমানে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।
অনুষদের শিক্ষকরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের ডিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে আমাদের শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতা সমস্যা নিয়ে কোনো ধরণের লিখিত অভিযোগপত্র উপাচার্য বরাবর দেয়নি। যার ভিত্তিতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিবেন।তাহলে কেনো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটিই আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। অনুষদের যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো শিক্ষককে দিলেই হবে।
এ বিষয়ে অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন তৌফিকুল ইসলাম দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘আগে এই অনুষদের সহযোগী অধ্যাপকেরা ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন । যেহেতু অধ্যাপক নেই, সে অনুযায়ী নতুন আরেকজন সহযোগী অধ্যাপকই এই অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পাবেন’
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. এমদাদুল হক দেশ রুপান্তরকে বলেন, জ্যেষ্ঠতা নিয়ে আমাদের বিভাগে বা অনুষদে কোনো সমস্যা নেই। এমন সিদ্ধান্ত কিসের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে তা আমরা ভালোভাবে জানিনা। এর প্রেক্ষিতে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী বলেন, নিশ্চয়ই উপাচার্য ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কোনো স্বার্থের বিষয় আঁচ করতে পেরেছেন, সেজন্য তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আসা চিঠি আমি উপাচার্যকে পাঠিয়ে দিয়েছি।
