দেশের চিকিৎসকদের সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, জেলা পর্যায়ে শতাধিক ও উপজেলাগুলোতে পাঁচ শতাধিক হাসপাতাল রয়েছে। এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসকদেরকেই তাদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আমরা সবাই জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলি, সেই কথাটা যেন ভুলে না যাই।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘রেসিডেন্ট ও নন রেসিডেন্টদের ভাতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ ও ‘স্মার্ট হেলথ কেয়ার ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫ম তলার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কী নোট স্পিকার ও সভাপতি হিসেবে ‘স্মার্ট হেলথ কেয়ার ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসা সেবাসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। দেশের রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট, টেস্টটিউব বেবীর জন্মদান, জোড়া শিশুর আলাদা করাসহ জটিল জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। কোটি টাকার কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট এই হাসপাতালে মাত্র ৩ লাখ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজও চিকিৎসাসেবায় সুনাম অর্জন করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় অনেক উন্নত দেশকে পেছনে ফেলে এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে বাংলাদেশ ৫ম স্থান অধিকার করেছে। ইপিআই কর্মসূচীতে সাফল্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কারের ভূষিত হয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের একমাত্র কালাজ্বর মুক্ত দেশের মর্যাদা লাভ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু স্বপ্নের কথা বলেন না, তিনি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জানেন। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। স্মার্ট হেলথ কেয়ারসহ স্মার্ট বাংলাদেশও তার নেতৃত্বে বাস্তবায়ন হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশেই চিকিৎসাসেবা নিতে পছন্দ করেন। আমাদের লক্ষ্য দেশের রোগীরা যাতে চিকিৎসাসেবার জন্য দেশের বাইরে না যায়। সে লক্ষ্য পূরণে দেশেই সকল ধরণের জটিল চিকিৎসা স্বল্প ব্যয়ে নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তবে এ লক্ষ্য পূরণে অবশ্যই প্রয়োজনে দক্ষ জনবল সুনিশ্চিত করতে হবে।