পেঁয়াজ কেজিতে ৪০ রুপির নিচে আনার চেষ্টায় ভারত

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:২৪ পিএম

২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যেই প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ রুপির নিচে আনতে চায় ভারত। দেশটির ক্রেতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রোহিত কুমার সিংয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এর আগে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিত কুমার সিং বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে কোনোভাবেই পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৬০ রুপির ওপরে উঠতে দেবে না সরকার। যদিও রাজধানী দিল্লিতে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৮০ রুপি পর্যন্ত উঠেছিল।

রোহিতের কথায়, কেউ বলছেন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০০ রুপিতে পৌঁছে যেতে পারে। আমরা বলছি দাম কিছুতেই ৬০ রুপির ওপরে উঠতে দেব না। আজ পেঁয়াজের গড় দাম ছিল ৫৭.০২ রুপি প্রতি কেজি। তবে ৬০ রুপির ওপরে দাম উঠবে না।

অবশ্য ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে গত সপ্তাহের শেষে পণ্যটির রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভূটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানি বন্ধ করার একটা কারণ খরিপ ফসল উঠতে বিলম্ব হওয়া। এছাড়া তুর্কি আর মিশরের মতো অন্য যেসব বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ আছে, তারাও রপ্তানির ওপরে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ভারতের সব থেকে বড় পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্রে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবারও মহারাষ্ট্রের শিরডিতে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছে। শনিবার থেকে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুই দিন পর আবারও চালু হয় পাইকারি বাজার।

নাসিকের পেঁয়াজ বাজারের ব্যাপারি হীরামণ পরদেশী বলেছেন, গত সপ্তাহের গোড়ায় কুইন্টাল প্রতি (১০০ কেজি) চার হাজার রুপি দাম পাচ্ছিলেন কৃষকরা। রপ্তানি বন্ধের নির্দেশের পর একদিনেই সেই দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা প্রতি কুইন্টাল দাঁড়িয়েছিল। দাম হঠাৎ অতটা পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আমাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন না। কিন্তু সোমবার থেকে আবারও কেনাবেচা শুরু হওয়ায় দাম উঠেছে। এখন দুই থেকে আড়াই হাজার রুপি কুইন্টাল প্রতি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে শিল্প-বাণিজ্য মহল মনে করছে আগামী বছর ভারতে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে তা থেকে সরকার-বিরোধী ক্ষোভ জন্মাতে পারে। তাই একদিকে যেমন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার নির্দেশ জারি হয়েছে, তেমনই বাড়তি পেঁয়াজ কিনে ধীরে ধীরে তা দেশের বাজারে ছাড়া হচ্ছে যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শিল্প-বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেছেন, পেঁয়াজ এমন একটা ফসল, যেটা রাজনৈতিকভাবে খুবই সংবেদনশীল, বিশেষ করে উত্তর ভারতে। এর আগে পেঁয়াজের বাড়তি দামের কারণে সরকার পড়ে যেতে দেখা গেছে। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক সরকার চেষ্টা করবে ভোটের আগে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত