পাকিস্তানের বিপক্ষে পার্থ টেস্টের প্রথম দিন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তিন অংক স্পর্শ করে হুংকার দিয়ে উঠলেন তিনি। এমন বাধভাঙ্গা উদযাপন করার কারণও অবশ্য আছে অস্ট্রেলিয়ান তারকা। পাকিস্তান সিরিজের আগে তাকে নিয়ে তো কম সমালোচনা হয়নি। মুখে নয়, ব্যাট দিয়ে সবকিছুর জবাব দিয়েছেন তিনি। তার চমৎকার ইনিংসে ম্যাচের প্রথম দিন নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ৫ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে স্বাগতিকরা। যেখানে ওয়ার্নার একাই করেন ৪ ছক্কা ও ১৬ চারে ১৬৪ রান।
অস্ট্রেলিয়ার এই বিশাল সংগ্রহ গড়ার কারিগর অনেক দিন ধরেই টেস্টে ছন্দের খোঁজে থাকা ওয়ার্নার। এই সিরিজে তাকে রাখা নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। বোধহয় অপেক্ষা করছিলেন ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরেন সব কিছুর জবাব দেওয়ার।
সেই জেদ থেকেই কিনা, ইনিংসের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওয়ার্নার। ৪১ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। আরেক প্রান্তে উসমান খাওয়াজা খেলে যান নিজের মতো। তাদের দৃঢ়তায় প্রথম সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয় সেশনে ৬ চারে ৪১ রান করা খাওয়াজাকে ফিরিয়ে ১২৬ রানের জুটি ভাঙেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। এই জুটিতে ওয়ার্নারের অবদান ছিল ৭৫ রান। এরপর দ্রুত মারনাস লাবুশেন (১৬) বিদায় নিলেন কিছুটা দেখেশুনে খেলতে থাকেন ওয়ার্নার। ১২৫ বলে ক্যারিয়ারের ২৬তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। এক বছর পর এই সংস্করণে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এই ওপেনার। তার সবশেষ সেঞ্চুরি ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে কাটিয়ে দেন ওয়ার্নার। তৃতীয় সেশনের শুরুতে স্মিথের বিদায়ে ভাঙে ৭৯ রানের জুটি। এরপর ট্রাভিস হেডকে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই সময়ে ১৫০ রানের পা রাখেন ওয়ার্নার ১৯৬ বলে।
থিতু হয়ে যাওয়া দুই ব্যাটসম্যানকে ৩ ওভারের মধ্যে ফিরিয়ে দেয় পাকিস্তান। অভিষিক্ত আমির জামালের বলে থার্ডম্যানে ধরা পড়েন ৬ চারে ৪০ রান করা হেড। এই পেসারই নিজের পরের ওভারে ধরেন ওয়ার্নারের শিকার। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের শর্ট বলে ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ওয়ার্নার।
দিনের বাকিটা সময় অস্ট্রেলিয়াকে আর কোনো বিপদ হতে দেননি মিচেল মার্শ ও অ্যালেক্স ক্যারি। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছেন এই দুইজনই। আগামীকাল কতদূর দলকে টেনে নিতে পারেন তারা, সেটাই এখন দেখার।
