ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৫ হাজার কোটি ইউরো সহায়তা আটকে দিয়েছে হাঙ্গেরি। ব্রাসেলসে সদস্যদেশগুলোর এক সম্মেলনে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তি নিয়ে ইইউ আশারবাণী শোনানোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এমন দুঃসংবাদ পেল কিয়েভ। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের ওই সভা শেষে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান সাফ জানিয়ে দেন, ‘রাত্রিকালীন আলোচনার সারাংশ হচ্ছে, ইউক্রেনের জন্য বাড়তি সহায়তার প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া হয়েছে।’
অবশ্য আশাবাদী ইইউ নেতারা বলেছেন ইউক্রেনে এই সহায়তা নিয়ে সামনে বছর আলাপ হবে।
বিবিসি বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় ইইউ এবং মার্কিন অর্থায়নের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইউক্রেন।
ইইউ নেতারা ইউক্রেন এবং মলদোভার সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু এবং জর্জিয়াকে প্রার্থীর মর্যাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই কিয়েভের সহায়তা আটকে দেওয়ার ঘোষণা দেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই ইইউতে ইউক্রেনের সদস্য হওয়ার বিরোধিতা করে আসছে হাঙ্গেরি।
এর আগে, ইইউতে ইউক্রেন ও মলদোভার সদস্যপদ নিয়ে দেশ দুটির সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পক্ষে মত দেন জোটটির নেতারা।
বিবিসি জানিয়েছে, ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক সম্মেলনে আট ঘণ্টা তর্ক-বিতর্কের পর ইউক্রেন ও মলদোভার সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্তে আসেন ইইউ নেতারা। কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলের মুখপাত্র জানান, সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে কিয়েভের সঙ্গে এই আলোচনা শুরুর বিষয়ে আগে থেকেই মত ছিল না হাঙ্গেরির। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ সিদ্ধান্তে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল দেশটি। যদিও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি।
অবশ্য হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান সেসময় কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি জানান, ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ দেওয়ার সম্ভাবনা একটা ‘খারাপ সিদ্ধান্ত’। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে হাঙ্গেরি থাকবে না। সেজন্য এই ভোটাভুটি থেকে দূরে থাকবে দেশটি।
