আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা চিন্তা করে দলীয় প্রতীকের চিঠি নিজ হাতে রেখেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। নিয়ম অনুযায়ী জাপা থেকে যারা জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান তাদের 'দলীয় প্রতীক এবং প্রার্থী' এ দুটি চিঠি দেওয়া হয়।
কিন্ত এবার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গলের চিঠি দেওয়া হয়নি। শেষ মুহূর্তে শাসকদল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা কিংবা দর কষাকষিতে এই ট্রাম্প কার্ড ব্যবহার করছে জাতীয় পার্টি। দলীয় প্রতীকের চিঠি নিজের হাতে রাখায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা বর্জন প্রশ্নে জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এক্ষেত্রে তার মতের বাইরে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ফোনে, রবিবার সকালের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বলেন। অন্যথায় জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যেতে নির্বাচন কমিশন বরারর যে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন সেটা টাইপ করে রেখেছে।
জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা বর্জনের একক সিদ্ধান্ত নেবেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এ লক্ষ্যে গত ৫ নভেম্বর দলের এক মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে চেয়ারম্যানকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। আসন সমঝোতা না হলে জাপা নির্বাচনে অংশ নেবে না এরকম সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন কাদের। ফলে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও জাপার দলীয় প্রতীকের চিঠি কাউকে দেওয়া হয়নি। কারণ শেষ মুহূর্তে জি এম কাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলেও অনেকেই বেঁকে বসতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মতো ভুল করতে চান না ভাই জি এম কাদের। ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকে শেষ মুহূর্তে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে সরে যেতে চান এরশাদ। এ জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েও তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। একইসাথে জাপার মনোনয়ন প্রাপ্ত সব প্রার্থীকে প্রার্থীকের চিঠি ফিরিয়ে দিতে ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন। তার নির্দেশে জি এম কাদেরসহ আরও অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেন জাপার একটা বড় অংশ।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ২০১৪ সালের ন্যায় বিএনপি ও তার মিত্ররা বর্জন করেছে। ফলে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে।
আসন সমঝোতার লক্ষ্যে ৫-৬ বার বৈঠকে হয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির। শনিবার রাতেও তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ২৬টি আসনে নৌকা প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কিন্ত জাতীয় পার্টির দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও এসব আসন থেকে সরিয়ে নিতে হবে অথবা ৫০-৫৫টি আসনে নৌকার প্রার্থীদের প্রত্যাহার করতে হবে।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চিঠিও টাইপ করে রেখেছে জাপা
কাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল