সাটুরিয়ায় ইউএনওর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা মুক্তিযোদ্ধাদের

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৪৫ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তা রহমানের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

বিজয় দিবসে সকালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো। তার বক্তব্য দেওয়ার সময় ইউএনও চলে যান। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তিনি অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে আসেন। এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ইউএনওর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর আগে আসন বিন্যাস ও অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাটুরিয়া প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান। এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ সময় প্রটোকল ভেঙে পড়লে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠন ও দপ্তরের প্রধানরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাটুরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ইউএনও শান্তা রহমানের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা শহীদ বেদিতে পুস্পস্তক অর্পণ করে অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যাই।’

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক এমনকি সাংবাদিকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। প্রশাসন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মানুষই মনে করে না। উপজেলা প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’

অনুষ্ঠানে বাগ্বিতণ্ডা প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো বলেন, ‘শুধু জাতীয় দিবসে নয়, তিনি (ইউএনও) বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।’

এদিকে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাস্তা বিতরণ নিয়েও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের সব সদস্যের জন্য সকালের নাস্তা বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এবার অংশ নেওয়া ২০টি দলের মধ্যে ৮ দলকে সকালের নাস্তা দেওয়া হয়। বাকি ১২ দলকে নাস্তা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত