সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। গতকাল বুধবার এ হত্যা মামলার সবশেষ অবস্থা জানতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে দেখা করেন সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার সময়ে যারা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তাদের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে এ মামলার তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স আদালতে একটি অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ছাড়া এই টাস্কফোর্স মামলার সব দিক তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিচার নিয়ে মেঘের উৎকণ্ঠার কথা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরার কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের হালনাগাদ তথ্য না থাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে, যা পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। গতকাল সকালে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ ও নওশের রোমান সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও তাদের আইনজীবী শিশির মনিরের সঙ্গে দেখা করেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় হতাশার কথা বলেন রুনির ভাই।
সাবেক অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার অগ্রগতির আশা করলেও তা পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ করেন নওশের রোমান। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পরপর আদালতে অগ্রগতির খবর পাওয়া যেত, এখন ছয় মাস পরপর সময় দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।
অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ বছর আগের একটি ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তিনি কেবল তদন্তকারী সংস্থার তুলে ধরা বাস্তব পরিস্থিতিই বর্ণনা করছেন। পরিবারের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তিনি তদন্তকারীদের জানাবেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আগামী ৭ জুন হাইকোর্টে সে প্রতিবেদনটি দেখার জন্য আবেদন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময়েও এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। ইতিমধ্যে অধস্তন আদালতে ১২৬ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সকে তিন দফায় ছয় মাস করে সময় দিয়েছে।
