নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছি : সিইসি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:২৮ এএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। তবে আমরা এবং প্রার্থীরা সবাই মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে এবং ভোটাররা আসবেন। এই বিশ্বাস, প্রত্যয় আমাদের আছে। রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন। রাজশাহী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে গতকাল বুধবার সকালে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যারা প্রার্থী, তাদের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। তারা কিছু কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, তারা অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা তাদের কথা শুনেছি, কমিশন শুনেছে। স্থানীয় প্রশাসন শুনেছে। সেই সমস্যাগুলো যদি সত্যি হয়, তাহলে সেগুলো কীভাবে নিরসন করা যায়, সে গাইডলাইন আমরা দিয়েছি।’  

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আপনারা আশ্বাস রাখুন সবার প্রয়াসে নির্বাচন সফল হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’ 

এদিকে, মতবিনিময় শেষে বের হওয়ার পর প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তারা সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যে দাবি জানিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন,  ‘দুটো জিনিস খুব গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়েছে। একটা হলো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড। আরেকটা হলো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না। নির্বাচনে কোনো কারচুপি হবে কি না, সেই প্রশ্নটা এসেছে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার উদ্বুদ্ধ করেছেন, যেন সবাই ভোট দিতে যায়। ভোটে অংশগ্রহণ করে এবং প্রত্যেকে যেন নিজের ভোট নিজে দেয়, সে ব্যাপারে প্রার্থীদের যারা এজেন্ট থাকবেন ভেতরে, তারা কেয়ারফুলি জিনিসগুলো যেন হ্যান্ডেল করেন। আপনারা যদি দেখেন যে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দিচ্ছেন, আপনারা কোনো অভিযোগ করছেন না তাহলে কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে এগুলো আশ^স্ত করেছেন। অনেক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকা নিয়ে কমপ্লিন ছিল। এলাকায় সন্ত্রাস হচ্ছে এসব কথা উঠেছে।’

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রার্থীদের ডেকেছিলেন শুভেচ্ছাবিনিময় এবং নির্বাচনী বিধিবিধান মেনে চলার বার্তা দেওয়ার জন্য। নির্বাচন কমিশনের যেটা মূল বার্তা সেটা হলো, আপনি যত বড় প্রার্থীই হোন আর যত শক্তিশালী হোন, নির্বাচনের যে আইন আছে সেই আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আপনি ছাড় পাবেন না। এটি মেনেই চলতে হবে। আরেকটা ভালো বিষয় হলো, বিভিন্ন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের তারাও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। এটি একটি ভালো দিক। 

রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি বলেন, ‘উনি আশ^স্ত করেছেন সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে। যত বড়ই ক্ষমতাশীল মানুষ হোক না কেন, ক্ষমতাশীল দল হোক না কেন, কাউকে তারা ছাড় দেবেন না এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার দায়িত্বটা আমাদের। কার কত জনপ্রিয়তা, সেটা দিয়ে যাতে আমরা ভোটারদের কেন্দ্রে আনি।’

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, নির্বাচন কমিশনার রাশিদা সুলতানা, ইসি সচিব জাহাংগীর আলম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান হুমায়ুন কবির, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, আরএমপি কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না : নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে মীমাংসা করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাজ নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ কারণে দলীয় সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা গেলে সেটি বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারত কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল এসব কথা বলেন। গত রবিবার নেওয়া সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সিইসি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ১০-১৫ বছর ধরেই আন্দোলন হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এটি নিয়ে দেনদরবার করবেন। তারা বিষয়টিকে মীমাংসা করবেন। এর ভিত্তিতে কখনো যদি বিষয়টির মীমাংসা হয়, সে পরিবর্তিত অবস্থায় নির্বাচন কেমন অবাধ হবে, সেটা তখন বোঝা যাবে। আপাতত আমার তরফ থেকে সিইসি হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা এ পর্যায়ে সমীচীন হবে না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সিইসি আরও বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যে কলহ বা বিরোধ আছে, সেখানে দূতিয়ালি করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে এবং সংবিধানের অধীনে নির্বাচনটাকে যেভাবে আয়োজন করা দরকার, সেভাবে করা। রাজনৈতিক যে বিরোধ, তা রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই মীমাংসা করতে হবে।’

ভোট প্রতিহত করার মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ইসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোট বর্জন বা বয়কট করার অধিকার যে কারও আছে, যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই আছে। কিন্তু ভোট প্রতিহত করা কিন্তু অসাংবিধানিক। এ কারণেই আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছি যেন ১৮ ডিসেম্বর থেকে ভোটারদের ভোট দেওয়ায় নিরুৎসাহিত করতে না পারে বা নির্বাচন প্রতিহত করার পক্ষে কোনো রকম সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় না।’

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করেছে। এই রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থক ভোটারদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজন ইসির নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘এ কারণে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। নিরপেক্ষতা তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন আমি গোপনে কোনো কারচুপিতে যুক্ত হব।’

নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) না রাখার কারণ জানতে চাইলে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘গাইবান্ধায় একটি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু পুরো নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বুথে ভোট হবে। এর জন্য সিসি ক্যামেরা লাগবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ। কেন্দ্রীয়ভাবে এই সাড়ে তিন লাখ সিসি ক্যামেরা মনিটর করা বস্তুগতভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। সে কারণে অনেক চিন্তাভাবনা করেই বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসানীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা একেবারেই মাথা ঘামাচ্ছি না। আমরা যারা নির্বাচন কমিশনে আছি, ভিসার ব্যাপারে আমার কোনো স্বার্থ আছে কি নেই, আমি নিজেও এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত