আলোচিত নির্মাতা
মস্কোর বিচারক যুবরাজ শামীম
চলতি বছর মুক্তি পায় চলচ্চিত্র ‘আদিম।’ খুব একটা হল পায়নি। দর্শকরা খুব একটা দেখেননি। কিন্তু এই নির্মাণ মুগ্ধ করেছে চলচ্চিত্র সমালোচকদের। দেশ-বিদেশের সমালোচকদের স্পর্শ করে গেছে ছবিটি। গত বছর ৪৪তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়ে প্রশংসার জোয়ারে ভাসে বাংলাদেশের ছবি ‘আদিম’। ছবিটির জন্য সেবার ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ ‘নেটপ্যাক সম্মাননা’ও জিতে নেন এর নির্মাতা যুবরাজ শামীম। এরপর সেই উৎসব থেকেই ডাক পান বিচারক, বিচারকের দায়িত্ব পালনের জন্য। যুবরাজ শামীমের নির্মাণের পেছনে গল্পটা একেবারে সাদামাটা। কেননা দামি কোনো শিল্পীকে না নিয়ে বাস্তব চরিত্রদের দিয়েই ক্যামেরার সামনে অভিনয় করিয়েছেন।
ঝড় তুললেন হিমেল আশরাফ
হিমেল আশরাফের প্রথম সিনেমা সুলতানা বিবিয়ানা ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। এরপর তিনি তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র প্রিয়তমা বানান। এই ছবিটি হিমেল আশরাফ এনে দেয় খ্যাতি, পরিচিত করে তোলে দেশব্যাপী। শাকিব খানের অনবদ্য অভিনয় ও লুক। একই সঙ্গে গানের সম্মিলন হিমেল আশরাফের নির্মাণ মুনশিয়ানাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। ফলে তার এই প্রিয়তমা দেশ-বিদেশে ব্যবসায়িকভাবে বড় সফলতা অর্জন করে। চলচ্চিত্রের পুরো আয়োজনের সব কৃতিত্ব অর্জন করেন এই নির্মাতা। এর স্বীকৃতিও দিয়েছেন প্রযোজক। প্রিয়তমার ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে পেয়েছেন প্রযোজকের কাছে থেকে গাড়ি উপহার।
হৃদয় জয় করেছেন হৃদি হক
ড. ইনামুল হক ও লাকী ইনামের মেয়ে হৃদি হক নিজের অভিনয় ও নাট্যপরিচালক হিসেবে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন বহু আগেই। প্রথমবার চলচ্চিত্র পরিচালনা করেও রীতিমতো আলোচনা তৈরি করলেন। তার নির্মিত ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ চলচ্চিত্র গত আগস্টে মুক্তি পায়, কিন্তু এই ছবি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে চলছে। দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দীর্ঘ সময় চলেছিল। হৃদি হকের এই নির্মাণ সাধারণ দর্শক থেকে সমালোচক সবার নজর কেড়েছে। বহু প্রশংসায় ভেসেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেয়র ও কাউন্সিলররা ছবিটি দেখেছেন, প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে একটি বক্তৃতা সেশনও ছিল ছবিটি নিয়ে। হৃদি হক নির্মাণে প্রত্যাশা বাড়িয়েছেন।
আলোচনার নির্মাতা রায়হান রাফি
গত বছরটা ছিল রায়হান রাফির জন্য শুভ বছর। তার নির্মিত পরাণ বেশ ভালো ব্যবসা করে। আর এ বছর ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সুড়ঙ্গ শোরগোল তুলেছিল। যদিও একক প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি, কিন্তু মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দাপট দেখিয়েছে। ছবি আলোচনায় আনার কৃতিত্ব রায়হান রাফির। রাফির নির্মাণ মানেই সেটা নিয়ে কথা হবে। নিশোকে নিয়ে যে গেম তিনি খেলেছিলেন সেটা বড় ব্যবধানে জয় আনতে না পারলেও হারেননি কেউই। এ বছর নিশো-রাফিকে যুগপৎভাবে আলোচনায় রেখেছে সুড়ঙ্গ।
এ ছাড়াও আম-কাঁঠালের ছুটি বানিয়ে বেশ প্রশংসায় কুড়িয়েছেন মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। দেশ-বিদেশে পুরস্কার পেয়েছে আম-কাঁঠালের ছুটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র। সাঁতাও সিনেমা বানিয়ে আলোচনায় ছিলেন নির্মাতা খন্দকার সুমন। লিডার আমিই বাংলাদেশ বানিয়ে আলোচনায় ছিলেন তপু খান। নাদের চৌধুরী পরিচালক হিসেবে এ বছর আলোচনায় আসেন। জ্বীন সিনেমাটি নিয়ে ঈদুল ফিতরে কথা হচ্ছিল। রাশিদ পলাশ ময়ূরাক্ষী নির্মাণ করে নিজের নাম পরিচিত করেন। এমআর নাইন আলোচনায় ছিল, আসিফ আকবর বানিয়েছিলেন এই সিনেমা।
তবুও এগিয়ে বুবলী