গাজীপুর মহানগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগা এলাকায় জমিতে গরু প্রবেশের দ্বন্দ্বে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কুপিয়েছে শ্যালক ও শ্যালকের ছেলে। প্রকাশ্যে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গুরুতর আহত বৃদ্ধকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বৃদ্ধ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগা এলাকার ওমেদ আলী। ঘটনার পর বৃদ্ধের মেয়ে ওহেদা খাতুন বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় বৃদ্ধের শ্যালক সাহিদ, তার স্ত্রী রেবেকা ও তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের নামে মামলা করেছেন।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পতিত জমিতে বৃদ্ধ ওমেদ আলীকে মাটিতে ফেলে শ্যালক সাহিদ পেটাচ্ছে এবং তার ছেলে সাদ্দাম ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। উপস্থিত কয়েকজন নারী চিৎকার করছেন। কিন্তু কেউ বাধা দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন না।
বৃদ্ধের মেয়ে ওহিদা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা বাড়িসংলগ্ন মসজিদের পাশেই ছোট ঘর তুলে থাকেন। মসজিদের আশপাশে সীমানায় বেড়া দিয়ে বিভিন্ন সবজিগাছ লাগিয়েছেন বাবা। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমার মামার গরু ওই শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের লাগানো গাছপালা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে বাবা বিভিন্ন সময় সতর্ক করেন মামাকে। মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা ও গাছপালা রক্ষার জন্য তার মামাকে বারবার সতর্ক করার পরও মামা শুনেননি। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক হলে মামা বাড়ি চলে যান। এ সময় বাবা মসজিদের পাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া নির্মাণ করছিলেন। পরে আলোচনা করে মামা সাহিদ ও মামাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করেন। একপর্যায়ে বাবার হাতে থাকা দা নিয়ে তাকে কোপান। পরে আমরা গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোপানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ওরা নিজেরাই হাত কেটে সাহিদকেও হাসপাতালে ভর্তি করেন।’
হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন আসামি সাহিদ বলেন, ‘আমাকেও (বৃদ্ধ) পিটিয়েছে, স্ত্রীকেও মারধর করেছেন।’
গাজীপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি মামলা হয়েছে। মামলার একজন আসামি হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় রয়েছেন। তদন্ত করা হচ্ছে, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
