বিনা পারিশ্রমিকে ১৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড ডা. কামরুল ইসলামের

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৮ এএম

দেড় হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজিতে রাত ১২টায় ১৫০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে শেষ করেন তিনি।

এর আগে এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে তার সময়ে লেগেছিল ১৪ বছর। তবে এরপর আরও ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে তার সময় লেগেছে ২৬ মাস। বিগত ১৬ বছর ধরে বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন মানবিক এই চিকিৎসক। তার প্রতিস্থাপনের সফলতার পরিমাণ ৯৫ শতাংশের বেশি।

কামরুল ইসলামের এই ১৫০০তম কিডনি প্রতিস্থাপিত রোগীর নাম মো. শহিদুল। তার বয়স ২৭ বছর। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের পূর্ব ছিলার চর। আর কিডনিদাতা তার নিজের বাবা তারামিয়া আকন (৪৮)।

গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপনেও নেননি পারিশ্রমিক। এছাড়া এসব রোগীদের প্রতিস্থাপন পরবর্তী সব ফলোআপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও রোগীর আমৃত্যু দিতে হয় না কোনো ফি। এছাড়া রোগীর পরামর্শ ফি নিয়ে থাকেন ৪০০ টাকা।

নিজের পারিশ্রমিক ছাড়া এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এরপর দায়িত্ববোধ যেন আরও বেড়ে যায়। মাত্র ২৬ মাসে আরও ৫০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করে নিজের রেকর্ড ভাঙেন।

রোগীদের মাত্রাতিরিক্ত চাপ ও মানুষের অসহায়ত্ব ঘুঁচাতে তিনি এখন সপ্তাহে পাঁচটি প্রতিস্থাপন করছেন। নিজ হাতে গড়া সিকেডি অ্যান্ড ইউোরোলজি হাসপাতালের রেকর্ড বলছে, প্রতিস্থাপনের পর এক বছর কিডনি সচল থাকার হার ৯৪ শতাংশ। তিন বছর পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ, পাঁচ বছর পর্যন্ত ৭২ শতাংশ এবং ১০ বছর পর্যন্ত কিডনি সচল বা সুস্থ থাকার হার ৫০ শতাংশ। তরুণদের কিডনি দানের হার বেশি হলে গ্রহীতারা আরও দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকতে পারতো বলে মত অধ্যাপক কামরুল ইসলামের।

সফল প্রতিস্থাপনের পরও ফলোআপ, পরীক্ষা নিরীক্ষায় খরচ চালাতে না পারায় অনেকে মৃত্যুর শিকার হন। সেদিক বিবেচনায় সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে প্রতিস্থাপন করা প্রতিটি রোগীর আমৃত্যু বিনামূল্যে ফলোআপ ও পরীক্ষা- নিরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন কামরুল ইসলাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত