দেশে হৃদরোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় হার্টের স্টেন্ট বা রিংয়ের দাম নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সমাধান হয়নি। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রিংয়ের দাম সমন্বয়ে জাতীয় কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু দুই ঘণ্টার সেই বৈঠকেও কোনো সমাধান আসেনি। ফলে দাম নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪টি ইউরোপিয়ান কোম্পানির স্টেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টেন্ট সরবরাহ বন্ধ অব্যাহত রইল।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির নেতারা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রিংয়ের দাম সমন্বয়ের জাতীয় কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বৈঠকে জাতীয় কমিটি ১৩ সদস্যের বাইরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে হার্টের রিং সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডাকা হয়নি। ফলে বৈঠকে দাম নিয়ে কোনো সমাধানও হয়নি।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর হার্টের স্টেন্টের (রিং) সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করে। তাতে ১৪-৩৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমানো হয়। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারিত দামে স্টেন্ট বিক্রি করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন কোম্পানির ক্ষেত্রে ‘মার্কআপ ফর্মুলা’ অনুসরণ করা হলেও রিং সরবরাহকারী ইউরোপের ২৪টি কোম্পানিকে এ তালিকায় রাখা হয়নি।
এর প্রতিবাদে সেদিন থেকেই হার্টের রিং সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপের ২৪টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত।
বৈঠকের বিষয়ে ইউরোপীয় রিং সরবরাহকারীরা জানান, অধিদপ্তরের জাতীয় কমিটির বৈঠকে তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেখানে সংকট নিরসনের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকে বলা হয়েছে, কোর্টের যে রায় হবে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
গতকালের বৈঠক প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, তারা (ইউরোপীয় রিং সরবরাহকারীরা) হাইকোর্টে গেছেন। ২ জানুয়ারি কোর্ট খুলবে। তখন আদালত যে ধরনের নির্দেশনা দেবে তার আলোকে বসে কমিটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
