সাজার মুখোমুখি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী যারা

  • ২০২৩ সালের মার্চে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াৎস্কিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বেলারুশের আদালত
  • বর্তমানে ইরানের আদালতে ৩১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদী
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা ও রায় নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা চলছে। তবে শুধু তিনি একা নোবেলবিজয়ী নন যিনি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

এখানে এমন কয়েকজন নোবেলজয়ীর তালিকা দেয়া হল যারা চলতি বছর বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন এমনকি কারাদণ্ড পেয়েছেন।

ড. মোহাম্মদ ইউনূস (বাংলাদেশ)

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস

২০০৬ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত তিনি। এছাড়া ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার সহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

১ জানুয়ারি ২০২৪ সালে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে ড. ইউনুসকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অং সান সু চি (মিয়ানমার)

মিয়ানমারের রাজনীতিবিদ অং সান সু চি

অং সান সু চি মিয়ানমারের একজন রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, এবং লেখিকা যিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রীর সমমান) হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির প্রধান নেত্রী।

গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে সংগ্রামের জন্য তিনি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার সহ আরো অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।

তবে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর বর্তমানে তিনি ও তার দলের অধিকাংশ নেতা গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন।

আলেস বিয়ালিয়াৎস্কি (বেলারুশ)

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াৎস্কি

সদ্য সমাপ্ত বছর ২০২৩ সালের মার্চে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াৎস্কিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বেলারুশের আদালত।

বিরোধীদের কর্মকান্ডে অর্থায়ন ও বেলারুশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২১ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিয়ালিয়াৎস্কি।

৬০ বছর বয়সী বিয়ালিয়াৎস্কি ভিয়াসনা মানবাধিকার গোষ্ঠীর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় কারাগারে বন্দি হওয়া শত শত বেলারুশ নাগরিকের মধ্যে বিয়ালিয়াৎস্কিই ছিলেন সবচেয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী।

২০২২ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান বেলারুশের বিয়ালিয়াৎস্কি।

নার্গিস মোহাম্মদী (ইরান)

ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদী

ইরানে নারীদের উপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সবার মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য আপোষহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান জেলবন্দি ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদী৷

কারাবন্দি অধিকারকর্মী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার জন্য ২০১১ সালে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন নার্গিস।

এরপর থেকে ইরানের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ১৩ বার আটক, পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত করে৷ ৩১ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৫৪ টি বেত্রাঘাতের শাস্তিও দেয়া হয় নার্গিস মোহাম্মদীকে। তারপরও অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে বিচ্যুত হননি তিনি৷ 

ইরানের মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তার এই সাহসী লড়াইয়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে গত বছর ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেয়া হয়৷

নার্গিস মোহাম্মদী ইরানের জাঞ্জানে ১৯৭২ সালের ২১ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন৷ ইরানের আরেক মানবাধিকারকর্মী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদির নেতৃত্বে ডিফেন্ডারস অফ হিউম্যান রাইটস সেন্টার (ডিএইচআরসি) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি৷

মারিয়া রেসা (ফিলিপাইন)

ফিলিপাইনে সাংবাদিক মারিয়া রেসা

২০২১ সালে রাশিয়ান একজন সাংবাদিকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন ফিলিপাইনে সাংবাদিক মারিয়া রেসা। তবে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সময় বিচারের সম্মুখীন হন তিনি।

২০১৮ সালে ফিলিপাইন সরকার অভিযোগ আনে যে, রেসা এবং তার প্রতিষ্ঠান র‍্যাপলার ২০১৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের রসিদ দেখাতে ব্যর্থ হন। সেই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কর জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া ২০২০ সালে সরকারি সংস্থাগুলো তার এবং র‍্যাপলারের সাইবার মানহানির অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে এবং সেসব মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে রেসা ওই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সদ্য সমাপ্ত বছরের সেপ্টেম্বরে শান্তিতে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে কর ফাঁকির মামলা থেকে অব্যাহতি দেন দেশটির আদালত।

তার খালাস পাওয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিপর্যস্ত সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত