চবির শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, স্থগিতের অনুরোধ ইউজিসির

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৩ পিএম

একাডেমিক ও প্লানিং কমিটিকে পাশ কাটিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড আয়োজন; কোনো কিছুতেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা ও আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুটি বিভাগে নিয়োগ স্থগিত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক সংস্থা ইউজিসি’র অনুরোধের বিষয়টি। 

আইন মেনে দুটি বিভাগের নিয়োগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে প্রশাসন দাবি করলেও চবি শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দের অভিযোগ এই নিয়োগের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন হয়েছে, যা অবৈধ।

গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) আইন ও বাংলা বিভাগে চলমান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিতের অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. গোলাম দস্তগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই দুই বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে যথাযথভাবে বিশ্ববিদ্যালয় আইন মানা হচ্ছেনা বলে ইউজিসির নিকট প্রতীয়মান হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গ' সুরোক্ত পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটাস-৯ যথাযথভাবে প্রতিপালন না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা এবং আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে মর্মে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটাস-৯ যথাযথভাবে প্রতিপালন না করে বাংলা ও আইন বিভাগসহ যেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে সেসকল বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের চলমান কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হলো। একইসাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গৃহীত ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করার অনুরোধ করা হলো।”

প্রসঙ্গত, বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির ‘না’ করা সত্ত্বেও চবিতে বাংলা বিভাগে ৭ জন ও আইন বিভাগে ২ জন শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমন সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবিতে গত ১৭ ডিসেম্বর অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চবি শিক্ষক সমিতি। পরে কয়েকজন প্রার্থীকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে অভিযোগ করে অনশন কর্মসূচি ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষক সমিতি।

পরবর্তীতে ১৯ ডিসেম্বর নিয়োগের ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেয় ইউজিসি। এরপর গতকাল এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের অনুরোধ জানাল ইউজিসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত