নিয়তির কি অদ্ভুত লিখন, মারিও জাগালো চলে যাবার মাত্র দুই দিন পর অন্য জগতে পা বাড়ালেন বেকেনবাওয়ারও। জার্মানির হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের খেলোয়াড়, ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতানো কোচ বেকেনবাওয়ার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেল নিশ্চিত করেছে কাইজারের মহাপ্রয়াণ। ৭৮ বছর বয়সে আরেকজন কিংবদন্তি ঠাই নিলেন অনন্তে, নক্ষত্ররূপে।
তার প্রয়াণে ফুটবল বিশ্বের চলছে শোকের মাতম। বিশ্ব ফুটবলের মহারথীরা স্মরণ করেছেন তাকে।
মহান কায়জারের চলে যাওয়ায় শোক নেমে এসেছে ফুটবল বিশ্বে। মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের মধ্যে তার অনবদ্য ভারসাম্য, দারুণ মানিয়ে নেওয়া এবং দূরদর্শী শৈলী তার যুগে ফুটবলের ধরনই বদলে দিয়েছে। তার নেতৃত্বের অসামান্য গুণে জার্মান জাতীয় দল ও বায়ার্ন মিউনিখ নিজেদের ইতিহাসে সফলতম অধ্যায় পার করেছে। এমনকি তার কোচিংয়েও। একজন সত্যিকারের কিংবদন্তিকে বিদায়।
আলেকসান্ডার চেফেরিন, উয়েফা প্রেসিডেন্ট
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের মৃত্যু বাস্তবিক অর্থে একটি ল্যান্ডমার্ক। আমরা তার সারাজীবনের কর্মকে গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। উনার চলে যাওয়ায় আমরা একজন অনন্য ফুটবলার এবং একজন প্রিয় ব্যক্তিকে হারিয়েছি। 'কায়জার' ছিল আমাদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। তার স্বাচ্ছন্দ্য, কমনীয়তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ফুটবল মাঠে অনন্য মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন। বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান হিসেবে তার সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি ও ক্যারিশমা, সেইসাথে তার প্রাণশক্তি এবং চেষ্টা অবিস্মরণীয়।
বার্ন্ড নিউয়েনডর্ফ, সভাপতি, জার্মান ফুটবল ফেডারেশন
কাইজার চলে গেছেন। তিনি ঠাট, দয়া এবং বন্ধুত্বের অন্য নাম ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য আমার বন্ধু ছিলেন। পেলে, ক্রুইফ বা চার্লটনের মতো ফুটবলই তাকে আমার কাছে নিয়ে আসে। নিয়ে আসেন। তিনি জার্মান ফুটবল যেমন তৈরি করেছেন, তেমনি বিশ্ব ফুটবলেরও ধরন বদলে দিয়েছেন। করেছেন। আমার কাছে তিনি মাঠে এবং মাঠের বাইরে সবসময় মানদণ্ডের সর্বোচ্চ প্রতিকৃতি রূপে ছিলেন। মিস্টার বেকেনবাওয়ার চলে গেছেন।
মিশেল প্লাতিনি, ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি
আমার জন্য ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ছিলেন জার্মান ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। লিবারো ভূমিকা সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা পুরো খেলাটাকেই বদলে দিয়েছে। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ঘাস জুড়ে ভেসে বেড়াতে পারতেন। একজন খেলোয়াড় এবং পরে কোচ হিসেবে তিনি ছিলেন মহৎ, তিনি ছিলেন সবকিছুর উর্ধ্বে। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার একটি ঘরে প্রবেশ করলে ঘরটি আলোকিত হয়ে উঠত। তিনি যথার্থই 'জার্মান ফুটবলের বাতিঘর'। এমনকি স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ভাগ্যের আঘাতও তিনি শেষ পর্যন্ত বহন করা আভাকে নাড়াতে পারেনি। আমি কৃতজ্ঞ এবং গর্বিত যে আমি তাকে জানতে পেরেছি এবং আজীবন তাকে স্মরণ করব।
জুলিয়ান নাগেলসম্যান, কোচ, জার্মান জাতীয় দল
একজন খেলোয়াড় এবং কোচ হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ছিলেন জার্মানির সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড়দের একজন এবং আমাদের মতো অনেকের কাছে "দ্যা কায়জার" (সম্রাট)। কারণ তিনি প্রজন্মান্তরে জার্মান ফুটবলকে অনুপ্রাণিত করে গেছেন। আমরা তাকে মিস করব। আমার সহমর্মিতা তার পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে রয়েছে।
ওলাফ শোলজ, চ্যান্সেলর, জার্মানি
