সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাতের চুরি দেখে আলোর দাবি ‘ওই লাশ দুইটা আমার মেয়ে ও নাতির’

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এফডিসি সংলগ্ন এলাকায় মোল্লাবাড়ি বস্তিতে আগুনের ঘটনায় এক নারী ও শিশু মারা গেছেন। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে মর্গে রাখা মৃতদেহ দুটি নিজের মেয়ে এবং নাতির বলে দাবি করেছেন আলো আক্তার। তার দাবি, মৃতদেহ দুটি শারমিন আক্তার করিমা (২৩) ও তার দুই বছরের ছেলে নাফির।

এদিকে পুলিশ বলছে, এখনো নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল আসার পর মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। সেখানে লাশ দুটির দাবিদার আলো আক্তারের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েকে ঠিকই চিনছি। ওইটাই আমার মেয়ে ও নাতি। শারমিনের হাতের চুরি ওইটাই। ওই লাশ দুইটাই আমার বুকের ধন।’

আলো আক্তার জানান, তিনি কারওয়ান বাজারে কাচা সবজির ব্যবসা করেন। তার স্বামী পালগ, ঘুরে বেড়ায়। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কারওয়ান বাজার মোল্লাবাড়ি বস্তিতে এখন তিনি, মেয়ে সুমাইয়া (১৫) ও ছেলে লিখন (১২) থাকেন। তিন বছর আগে শারমিনের বিয়ে হয়। গত ৫ ডিসেম্বর জামালপুরের ইসলামপুর থেকে বেড়াতে এসেছেন শারমিন ও নাতি নাফি। ঘটনার পর সুমাইয়া ও লিখনকে পেলেও খুঁজে পাচ্ছেন না শারমিন ও নাফিকে।

‘আমি মেয়েকে ঠিকই চিনছি। ওইটাই আমার মেয়ে ও নাতি। শারমিনের হাতের চুরি ওইটাই। ওই লাশ দুইটাই আমার বুকের ধন।’

 

অগ্নিকাণ্ডের সময় সবজি কিনতে কারওয়ান বাজার ছিলেন আলো আক্তার। ছেলে-মেয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় সুমাইয়া দৌড়ে বের হয়। আগুনের ভেতর থেকে লিখনকে বের করে শারমিন। পরে ছেলে নাফিকে বের করতে গেলে একটি টিন খসে পরে আটকে যায় তারা। লিখন তাদের বের করার জন্য ঘরে গেলে তারও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পুড়ে যায়। পরে লিখন বের হয়ে গেলেও শারমিন ও নাফি আর বের হতে পারেনি।’

শারমিনের স্বামী মিজানুর রহমান জানান, তিনি কারওয়ান বাজারে একটি জুতার দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। থাকেন তেজগাঁও মহিলা কলেজের সামনে একটি মেসে। রাতে যখন আগুন লাগার খবর পান, তখন মেস থেকে বস্তিতে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও স্ত্রী আর সন্তানকে খুঁজে পাননি।

মিজানুর জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান থাকেন জামালপুরে। তাদের ১৫ জানুয়ারি গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘ট্রেনের টিকিটও কাটছি। কিন্তু ওদের আর ফেরা হলো না।’
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে নিহতদের পরিচয় বিষয়ে বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিচয় স্পষ্ট জানা যায়নি। কারণ তারা এমনভাবে পুড়েছে যে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে দুইজন নিখোঁজ আছে। ধারণা করা হচ্ছে, যারা নিখোঁজ আছে তারাই হয়ত এই দুইজন হয়ে থাকতে পারেন। মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে পরিচয় জানা যাবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত