নৌকার পক্ষে কাজ করায় যুবলীগ কর্মীর চোখে গুলি

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৯ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নৌকার পক্ষে কাজ করায় আরমানুল ইসলাম (২৯) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে গুলিবিদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।

আরমানুল বর্তমানে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে নেয়া হবে।

আরমানুলের পরিবার জানায়, সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেননগর গ্রামের বাসিন্দা আরমানুল। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় ৭ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে ঢুকে আরমানুলকে গুলি ছুড়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ মোতালেব কর্মীরা। এতে আরমানুলের চোখে ও মুখে ছররা গুলি লাগে। তাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। পরে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেয়া হবে। আরমানুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য শুরু থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

আরমানের ভাই মোহাম্মদ হাছান বলেন, সংসদ নির্বাচনে আমরা পুরো পরিবার নৌকা পক্ষের কাজ করেছি। আমার ভাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট ছিল। ভোট শেষ করে রাতে আমরা বাড়িতে আসি। আমরা সবাই বাড়িতে ছিলাম। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের সময় ঈগল প্রতীকের অনুসারী জয়নাল ও জাহেদের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ বাড়িতে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকলে আরমান গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে সাতকানিয়া হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় আমিন (আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন) ভাইকে কল দিয়েছি। বলার পর সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম হাসপাতালে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ওখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপরে আমরা বিমানের ফ্লাইটে এসেছি। আমিন ভাই টিকিটসহ সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তির পর থেকে প্রতিদিন নিজে এসে আরমানের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আজ বিকেলেও এসে দেখে গিয়েছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য  ইন্ডিয়ার শংকর নেত্রালয় হাসপাতাল থেকে অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে দিয়েছেন। আমাদের পাসপোর্ট রিনিউ করে দিয়েছেন। এখন ভিসা পেলেই চলে আমরা চলে যাবো।

 

তিনি বলেন, গুলির ঘটনায় এখনো মামলা করতে পারিনি। ঘটনার পর আমাদের ওসিকে কল দিয়েছিলাম। উনি হাসপাতালে এসে দেখেছেন। আমার বাড়িতে গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছেন। উনি বলেছেন ভাইকে সুস্থ করে এসো, তারপর মামলা হবে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত