এক বছরে ৩০০ শিশুর জটিল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার হয়েছে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৭ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে গত এক বছরে শিশুদের জটিল হৃদরোগের তিনশর বেশি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ১৬ হাজারের মতো কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন ও ১৬শর মতো প্রাইমারি পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন (পিসিআই) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীকে যত দ্রুত হাসপাতালে এনে পিসিআই চিকিৎসা দেওয়া যাবে তত মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে।

গতকাল রবিবার সকালে বিএসএমএমইউতে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাথ ল্যাব রিলেটেড ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলোজি বিভাগে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলরের, লিভার ক্যানসারে ইন্টারভেনশন হয়। হেপাটোলোজি বিভাগে ন্যাসভ্যাকের মতো ওষুধের ট্রায়ালও হয়। স্ট্রোকের রোগীকে তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে এখানে আনলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। এখানে ডিএসএ, নিউরোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন হয়।

উপাচার্য জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে শিশু হৃদরোগ বিভাগে বছরে ১০০টি অপারেশন হয়েছে। কিন্তু এখন বছরে শিশুদের জটিল হৃদরোগ নিরাময়ের জন্য ৩৩০টির বেশি অপারেশন হচ্ছে। শিশু হৃদরোগের ইন্টারভেনশনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ছাড়া যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা নিজেরাই করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করছি। হৃদরোগের জটিল ও কঠিন চিকিৎসাসেবা চিকিৎসায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সফলতা রয়েছে। এখন আর হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

সেমিনারে বলা হয়, কার্ডিওলজি বিভাগে সব ধরনের করোনারি ইন্টারভেনশনসহ ডিভাইস ইমপ্ল্যান্টেশন এবং স্ট্রাকচারাল হার্ট ডিজিজের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাইমারি পিসিআইর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ জরুরি জীবন রক্ষাকারী ইন্টারভেনশনও রয়েছে। এই বিভাগেই যুগান্তকারী হাইব্রিড পেরিফেরাল ভাসকুলার ইন্টারভেনশন যেমন হয়েছে, তেমনি একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে (হার্ট ও পেরিফেরাল ভেসেল) স্টেম সেল থেরাপি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম ঘটনা। এ দুটো কীর্তিই রচিত হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মো. রসুল আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মাদ ফয়সাল ইবনে কবির এবং সহযোগী অধ্যাপক ও ভাসকুলার সার্জন ডা. রকিবুল হাসানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। ২০২৩ সালে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো ইন্টারভেনশন হয়েছে এই বিভাগে।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. তারিকুল ইসলাম, হেপাটোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহাতাব স্বপ্নীল, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ্ সবুজ ও হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফয়সাল ইবনে কবির একটি করে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত