গভীর রাতে শীতার্তদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেন ইউএনও রাবেয়া আক্তার

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৩ পিএম

রাতের আঁধারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাজার শরীফ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে,   বাসস্ট্যান্ডে, ফুটপাত এবং রেলস্টেশনের ভাসমান ছিন্নমূল মানুষদের কম্বল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাবেয়া আক্তার।

সোমবার গভীর রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেল স্টেশন, মাজার শরীফ, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ফুটপাতে শুয়ে থাকা এসব সুবিধাবঞ্চিত প্রকৃত অসহায় ব্যক্তিদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি।

আখাউড়া রেলওয়ে ষ্টেশনে কোনরকমে শরীরে একটা কাপড় জড়িয়ে শুয়ে ছিলেন এক বৃদ্ধা। থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি। এসময় ইউএনও গিয়ে তার গায়ে কম্বল তুলে দেন। কম্বলটি পেয়ে তিনি আনন্দে আত্মহারা। তিনি বলেন, ‌‘কয়দিন ধইরি খুব ঠাণ্ডা লাগছিলো। আজকে টিএনও স্যার আমাক যে কম্বল দিলো আমি অনেক খুশি।’

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাবেয়া আক্তার বলেন, বিত্তবান মানুষ গরম কাপড় ক্রয় করে শীত নিবারণ করলেও গরীব-ছিন্নমূল মানুষেরা টাকার অভাবে ক্রয় করতে পারছেনা শীতের গরম কাপড়। তাই অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ শ্রমিকের কাজে যেতে পারছে না। রাতে রেল ষ্টেশনসহ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে, মাজার শরীফ, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে শীতার্ত মানুষ শীতে কষ্ট করে থাকেন। এরাই প্রকৃত শীতার্ত। তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করার রাতে বের হয়ে তাদের কম্বল তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকা ও উপজেলার প্রতিটি মাদরাসা ও এতিমখানায় নিজ হাতে তিনি শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন বলেও জানান তিনি। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত