এখনো নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত হচ্ছে : শেখ হাসিনা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০৯ এএম

আওয়ামী লীগের প্রধান ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দোয়া করবেন; এখনো চক্রান্ত শেষ হয়নি। এখনো শুনি, তারা আবার লাফালাফি করে। নির্বাচন বাতিল করতে হবে, এই করতে হবে, সেই করতে হবে। যাই হোক, জনগণের ভোটে আমরা আবার সরকারে এসেছি, জনগণের কল্যাণেই আমরা কাজ করে যাব।’

গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে পঞ্চমবার এবং টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, ইতালিসহ ২৯টি দেশের প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বিজয় বাংলাদেশের জনগণের বিজয়। এ বিজয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বিজয়।’

আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘পরাজয়ের ভয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তারা জানে যে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সেজন্য তারা নির্বাচন করতে চায় না। বরং নির্বাচন বিনষ্ট করে কীভাবে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় সে পথ খুঁজে বেড়ায়। অন্ধ গলিপথ খুঁজে বেড়ায়, আলো ঝলমল নির্বাচন আর জনগণের পথ তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা জানে, জনগণ তাদের বর্জন করেছে। এ কারণেই তারা নির্বাচনে যেতে চায় না। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ক্ষমতায় যাওয়ার বিভিন্ন উপায় খুঁজছে। তারা আলোর পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্ধকারের গলির দিকে তাকিয়ে আছে।’

বিএনপির বন্ধ কার্যালয়ের তালা ভাঙা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘নিজেরা অফিসে তালা দেয়, আবার নিজেরাই ভাঙে। তারা গর্ব করে বলে যে, চাবি হারিয়ে গেছে। চাবি গেল কোথায়? তালা তো তাদেরই দেওয়া ছিল। তাদের চাবি খোয়া যাবে, চাবি হারাবে, তারাও পথ হারাবে। তারা এখন পথহারানো পথিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির দক্ষতা অগ্নিসন্ত্রাস। বাসে-লঞ্চে ও রেলে আগুন দেওয়া। রেলের লাইন খুলে দিয়ে, রেলের পাত খুলে ফেলে মানুষ মারা। মানুষ মারার ফাঁদ পাতায় ওরা ওস্তাদ।’

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, সে নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি। অধিকার শুধু নয়, সাংবিধানিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করেছি। আমরা নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। হ্যাঁ, নৌকা মার্কা দিয়েছি, সঙ্গে এ কথাও বলেছি, যারা নির্বাচন করতে চায় তারা তা করতে পারবে। উন্মুক্ত করে দিয়েছি বলেই নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব। যেন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। এটুকু বলতে পারি, গত ১৫ বছর আমরা সরকারে আছি বলেই বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব দূর হয়েছে, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে; বাংলাদেশের মানুষ এখন আরও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে।’

দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতা-সংগ্রামে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে প্রবাসীরা বিরাট অবদান রাখেন। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।’

তিনি বলেন, ‘যখন বাংলাদেশে মার্শাল ল জারি হয়, আমরা যখন কাজ করতে পারি না, তখন প্রবাসীরা প্রতিবাদ জানান। আপনারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। জনমত সৃষ্টি করেন। এটা আমাদের জন্য বিরাট শক্তি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত