মমতাজের অধ্যায় শেষ!

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:২৯ পিএম

সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর- হরিরামপুর - সদরের তিনটি ইউনিয়ন) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর কাছে পরাজিত হন মমতাজ। তবে মমতাজ বেগম নির্বাচনী এলাকার নিজ উপজেলা সিংগাইরে ঘটে ভোটের ভয়াবহ ফলাফল  বিপর্যয়।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের এ ফল বিপর্যয় বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এরমধ্যে তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন, কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়করণ ও পদ বাণিজ্য, নৌকা প্রতীকের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানদের অসম্মান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিনকে কটাক্ষ করে বক্তব্য প্রদান। এছাড়াও বিতর্কিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন না করা অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও সামনে চলে এসেছে। এর মধ্যে নিজের সৎ মা ও তিন বোনদের খোঁজখবর না নেয়া এবং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করায় নির্বাচনে তারা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এসব ঘটনায়ই আজ তার অধঃপতনের কারণ বলে মনে করছে অনেকেই।

এছাড়া সিংগাইরে মডেল মসজিদ, মিনি স্টেডিয়াম, খেলাঘর ও ডাকবাংলো নির্মাণ করতে না পারা এবং ভাষা শহিদ রফিক সেতুর টোলমুক্ত করতে না পারাকে  অনেকেই তার ব্যর্থতা বলে মনে করছেন।

মমতাজ বেগম সংসদ সদস্য হওয়ার পর গত দুই মেয়াদে রয়েছেন সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে প্রয়াত স্বামীর ভাগ্নে শহিদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক বানান। এবার উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন তার ছোট মেয়ে রাইসা রোজ ও নিজ ইউনিয়ন জয়মন্টপ ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রয়েছে আপন বড় ভাই এবারত হোসেনের ছেলে ফিরোজ কবির।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে মমতাজ বেগম সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হন। পরবর্তীতে ২০১৪ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে দলে টিকেট নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করেন। দ্বাদশ নির্বাচনেও নৌকার টিকিট বাগিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা মমতাজের।

সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, মমতাজ বেগম এই আসনে নানা কারণে মানুষের কাছে বিতর্কিত এটা সকলের কাছেই অজানা নয়। তিনি আমাদের সিংগাইর আওয়ামীলীগকে পরিবারিক লীগ বানিয়ে ফেলেছেন। তিনি নিজে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন। এছাড়া, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ত্যাগী নেতা মাজেদ খানকে সরিয়ে প্রয়াত স্বামীর ভাগ্নে শহিদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক বানান। এমন অনেক রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা তাকে ছেড়ে দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ভাটার বিষয়ে জানতে মমতাজ বেগমের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়া গেলেও পরাজয়ের পর গনমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কালো টাকার প্রভাব ও নির্বাচনের দিন দুপুরের পর বলধারা এবং বায়রা ইউনিয়নে ভোট মেরে টুলু জয়ী হয়েছেন। আগে শতর্ক হলে এমন পরিস্থিতির শিকার হতেন না। ভোটের পর তার নেতাকমীদের উপর হামলার অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশকে আল্টিমেটামও দিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত