যাকে আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা, সেই ক্রিকেটারের বিপক্ষে জয় সবসময়ই অন্যরকম এক অনুভূতির জন্ম দেয়। লুক জঙ্গুয়েও এখন ভাসছেন আবেগের ভেলায়। শৈশবে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ছবি ছিল তার ওয়ালপেপার, এমনকি ফেইসবুক প্রোফাইল পিকচার হিসেবেও। লঙ্কান অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকেই তুলাধুনা করে মঙ্গলবার কলম্বোতে জিম্বাবুয়েকে এনে দেন জঙ্গুয়ে অবিশ্বাস্য এক জয়। তার জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!
টানা দ্বিতীয় ম্যাচের জয়ের নায়ক হতে পারতেন তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফেরা ম্যাথিউস। ৬৬ রানের ইনিংস দিয়ে ১৭৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটিতে শেষ ৬ বলে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। শেষ ওভারটি যখন করতে এলেন অভিজ্ঞ ম্যাথিউস, স্বাভাবিকভাবেই নানা ভাবনা উঁকি দিচ্ছিল জঙ্গুয়ের মনে। শৈশবের ‘হিরো’কে প্রথম বলে ছক্কা মেরে সেসব তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন তিনি। পরের দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের কাছে নিয়ে যান জঙ্গুয়ে।
ম্যাথিউসের ওই ওভারে একবার জীবনও পান জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডার। চতুর্থ বলে তার ক্যাচ ধরতে পারেননি মাহিশ থিকশানা। শেষ ২ বলে ২ রানের প্রয়োজনে ছক্কা মেরে জিম্বাবুয়েকে স্মরণীয় জয় এনে দেন ক্লাইভ মাদান্ডে। সিরিজে সমতা ফেরানো জয়ের পুরো কৃতিত্ব দুটি করে ছক্কা-চারে ২৫ রান করা জঙ্গুয়ের। ম্যাচ সেরা হন তিনিই।
ম্যাচ শেষে ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বললেন, এই জয় তার জন্য বিশেষ এক পাওয়া। কারণটাও খোলাসা করলেন তিনি। “গত কয়েক মাস ধরে আমি এমন পরিস্থিতিতে ছিলাম যেখানে দেশকে জেতাতে পারতাম, এমননি ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির দলকেও, কিন্তু আমি সেটা করতে পারিনি। খুব কাছে গিয়েও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে পারা, বিশেষ করে অ্যাঞ্জেলোর (ম্যাথিউস) বিপক্ষে যাকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছি, এই জয় তাই আরও বেশি আনন্দের। বিশেষ কিছু।”
তিনি বলেন, “যখন ছোট ছিলাম, তিনি আমার ওয়ালপেপার ছিলেন। তখন তিনি গ্রে-নিকোলসের সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন। আমি তখন তরুণ ছিলাম। এক পর্যায়ে তিনি আমার ফেইসবুকের প্রোফাইল পিকচার ছিলেন। আজকে আমার মধ্যে অনেক কিছু ঘটছে। অনেক আবেগ কাজ করছে। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে কাল লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
