‘পেট চলবে কেমনে’ বেঁচে ফিরেও চিন্তা সাজ্জাদের

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৮ পিএম

ট্রাকচালক সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ি কুষ্টিয়ার। ট্রাকের চাকা ঘুরিয়ে চলে সংসার। সেই ট্রাক ডুবে গেছে পদ্মায়। এতে নিজে বেঁচে ফিরলেও সাজ্জাদের চিন্তা পেটের, সংসারের।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া প্রান্তের ৫ নম্বর ঘাটে রজনীগন্ধা নামে একটি ফেরি ডুবে যায়। এ সময় ফেরিতে ছোট সাতটি ও বড় দুটি ট্রাক ছিল। সবগুলোতেই মাল বোঝাই ছিল বলে জানিয়েছেন চালকরা। এর মধ্যে একটি ট্রাকের চালক সাজ্জাদ।

বিকেলে পদ্মার কিনারে দেখা গেল সাজ্জাদকে। বেঁচে ফেরার আনন্দ ভুলে এখনও তার কপালে চিন্তার ভাজ। সাজ্জাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেই তার প্রথম প্রশ্ন, ‘আমার ট্রাকটা কবে ফিরে পাব?’

সাজ্জাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কবে ট্রাক পাবো, কবে  ট্রাক নিয়া রুটে নামবো। ট্রাক না চললে আমার পেট চলব কেমনে?’

তিনি বলেন, ‘কাচপুরে মাল নামাতে পারলেই মিলত রোজের টেহা। টেহা পাইয়া মোবাইলেত পাডামু কইছিলাম বউরে। এহন আমার ট্রাকটিই পাইতিছি না। কী পরিমাণ ক্ষতি অয়ছে, ট্রাক পাইলে বুঝতাম। এহন আমার টাকা দ্বার করা ছাড়া উপায় নাই।’

ডুবে যাওয়া ট্রাকে ছিলেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঋণ করে চামড়া ব্যাবসা শুরু করছি। ১৪ লাখ টাকার পশুর চামরা নিয়ে যাচ্ছিলাম সাভারের হেমায়েতপুরে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমার ট্রাকের হদিস পাইনি। চামড়া যদি ট্রাকে থাকে তাহলে আমার ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। চামড়া সম্পূর্ণ নষ্ট কিংবা হারিয়ে গেলে আমার পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

আরেক ট্রাক মালিক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘আমার সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার নিজের ৬০ লাখ টাকার মাল আর ৩০ লাখ টাকার ট্রাক। আমি এখন শেষ হয়ে গেলাম।’

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, নয়টি ট্রাক নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় রজনিগন্ধা নামে একটি ফেরি। সেখান থেকে মালবোঝাই একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি বলছে, সকালে পাটুরিয়া ৫নং ঘাটের কাছে বাল্কহেডের ধাক্কায় ফেরিটি ডুবেছে। কিন্তু বাল্কহেডটি এখন পর্যন্ত জব্দ করা যায়নি।

এদিকে ফেরি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ফেরির সহকারী চালক হুমায়নকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি

বিআইডব্লিউটিসি দাবী করছেন,  বালুবাহী বালগেটের দাক্কায় ফেরি ডুবেছে, আর প্রতক্ষদর্শী দর্শীেরা বলছেন ফেরি ছিদ্র হয়ে রজনীগন্ধা নামে ছোট ফেরিটি ডুবে গেছে। ফেরি ডুবার সাথে সাথে ২০ জনকে উদ্বার করেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩০ জনের টিম উদ্বার কাজে রয়েছে। 

মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, বিকাল সাড়ে ৪ টা দিকে ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান উদ্বার করেছে। 

নিখোজ হুমায়ন আহমেদ কে উদ্বারের কাজ চলছে। আমাদের ৩০ জনের টিম কাজ করছেন।

 নৌ পুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ফেরি নিচের অংশ ছিদ্র হয়ে ফেরি ডুবে গেছে। 

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার বলেন,  এ ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। বিকাল সোয়া ৫ টা পর্যন্ত নিখোজ ফেরির সহকারী চালক হুমায়ন কে উদ্বার করা যায়নি। তবে আমাদের উদ্বার কাজ চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত