টেলিযোগাযোগ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পাওনা দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। এর মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে পাওনা ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। লাইসেন্স, রেভিনিউ শেয়ারিং ও তরঙ্গ ফি বাবদ বিটিআরসির কাছে বিশাল এই বকেয়া দাঁড়িয়েছে টেলিটকের। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। দ্রুততম সময়ে পাওনা পরিশোধে টেলিটককে তাগিদ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গতকাল বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বকেয়া সব পাওনা পরিশোধ এবং বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে অর্থ প্রদানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে টেলিটকের সঙ্গে বিটিআরসির অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ। একই দিন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর সঙ্গে সেবায় নতুনত্ব আনয়ন, বিটিসিএলের ‘আলাপ’ অ্যাপে নতুন ফিচার সংযোজন এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধেরও তাগিদ দেওয়া হয়।
কমিশনের অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান এবং বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।
বৈঠকে টেলিটককে ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া বিটিআরসির পাওনা ১ হাজার ৮৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ এবং পাওনা সংশ্লিষ্ট সব ডাটা প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে টেলিটক দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করবে মর্মে কমিশনকে অবহিত করে। অন্যদিকে বিটিসিএলকে আইসিক্স, এনটিটিএন, আইপিটিএসপি এবং পিএসটিএন সংক্রান্ত সব ডাটা বিটিআরসির কাছে প্রেরণসহ উদ্ভাবনী প্রোডাক্ট উন্নয়ন, গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিতে উদ্যোগ গ্রহণসহ বিটিআরসি কর্তৃক সব পাওনা পরিশোধের বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কমিশনের অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদসহ উক্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
