সিলেটকে আগের রাতেই হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই তাদের টেনে মাটিতে নামালো খুলনা টাইগার্স। রূপসা নদী পাড়ের বিভাগটির কাছে ধরাশায়ী হয়ে মাত্র ১২১ রানেই অলআউট হয়ে গেছে সাগর পাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
খুলনার বোলাররাও ছিলেন দারুণ ছন্দে। স্পিনার নাহিদুল ইসলাম দেখালেন চোখ ধাঁধানো বোলিং। ৪ ওভারে নাহিদুল দিলেন মাত্র ১২ রান, উইকেট নিলেন ৪টি। আগে ব্যাট করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স করে কেবল ১২১ রান। তাও শেষবেলায় শহিদুল ইসলামের খেলা ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংসে কল্যাণে।
প্রথম ওভারে দিলেন কেবল ১ রান, পাঁচ ডট। নিজের পরের ওভারেই পেলেন উইকেটের দেখা। এরপর আরও তিনটি উইকেট দখলে নেন নাহিদুল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে নাহিদুলের বোলিং ফিগার রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। ৪-০-১২-৪!
আগের ম্যাচের মতোই ওপেনিং জুটি চট্টগ্রামকে দিতে পারেনি স্বস্তি। আগের ম্যাচে আবিসকা ফার্নান্দো দাপট দেখালেও আজ ফিরেছেন দ্রুত। নাহিদুল ইসলাম ইনিংসের শুরুর ওভারে খরচ করেন কেবল ১ রান। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে পেয়েছেন জোড়া শিকার। তিনে নামা ইমরানউজ্জামান ফিরলেন গোল্ডেন ডাক হয়ে। নাহিদুল জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। কিন্তু শাহাদাত হোসেন দিপু নাহিদুলকে এই কীর্তি গড়তে দেননি।
পরের ওভারে ওশানে থমাস এসে তানজিদ তামিম ও দিপুর সামনে খরচ করে যান মোট ১৯ রান। নাহিদুল নিজের কোটার তৃতীয় ওভারে এসে দখলে নেন আরও এক উইকেট। এবার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন ১৯ রানে থাকা তানজিদ তামিমকে। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি।
এক নাহিদুল ইসলামের স্পিন বিষে নীল হয়ে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। চরম বিপাকে পড়া দলটি আগের ম্যাচের অনুপ্রেরণা নিয়ে শাহাদাত দিপু ও নাজিবউল্লাহ জাদরানের ব্যাটে লড়াইয়ের চেষ্টায় ছিল। তবে দলীয় রান ৫০ পার হওয়ার পরই নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৬ রানে সাজঘরের পথে হাটেন দিপু। অধিনায়ক শুভাগত হোমও দলের জন্য বেশি কিছু করতে পারেননি। দিপুর বিদায় নেওয়ার পরের ওভারেই খুলনার পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক। ৪ বল খেলে করেন কেবল ২।
নিজের শেষ ওভারে নাহিদুল পান বড় উইকেট। এবার ক্যাচ তুলে ফিরলেন ২৪ রান করা নাজিবউল্লাহ জাদরান। ৪ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-০-১২-৪’তে। মিরপুরে নাহিদুলের ওমন ‘অবিশ্বাস্য’ বোলিংয়ের কৃতিত্ব আসলে নাহিদুলেরই। নাহিদুলের বুদ্ধিমত্তার, নাহিদুলের দক্ষতার।
এরপর ক্যারিবীয় পেসার ওশেন থমাস পান উইকেটের দেখা। কার্টিস ক্যাম্ফার ব্যক্তিগত ৭ রানে হয়েছেন বোল্ড। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় চট্টগ্রামের বড় রানের আশা। নিজের শেষ ওভার করতে এসে ফাহিম আশরাফ পান জোড়া উইকেটের দেখা। ওভারের তৃতীয় বলে নিহাদুজ্জামানের উইকেট নিয়ে শেষ বলে স্টাম্প ভাঙেন বিলাল খানের। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এদিন ব্যাট হাতে দাপট দেখাতে থাকেন শহিদুল ইসলাম।
শেষবেলায় শহিদুলের খেলা ৩১ বলে ৪০ রানের ইনিংসের কল্যাণেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স পায় ১২১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
