চতুর্থ দিনে মতো চলছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধা উদ্ধার অভিযান। ফেরিতে থাকা কয়েকটি যানবাহন উদ্ধার করা গেলেও এখনও ফেরিটিকে উদ্ধার সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ফেরির সেকেন্ড ড্রাইভার হুমায়ুন কবিরের (৩৯) সন্ধান মেলেনি এখনও। তাকে উদ্ধারে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল কাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এমন ঢিলেঢালাভাবে উদ্ধার অভিযান চালালে কতদিন লাগবে তার হিসেব নেই। গত বুধবার দুটি ও বৃহস্পতিবার ১টি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ট্রাক মালিক-চালক ও সমিতির নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, উদ্ধার অভিযানে উদ্ধারকারী ৩টি জাহাজ, নৌবাহিনীর, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একযোগে কাজ করছে। ফেরি উল্টে যাওয়ার কারণে ডুবন্ত যানবাহন উদ্ধারে সময় বেশি লাগছে। প্রত্যয় উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে, তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরিসহ বাকি যানবাহন উদ্ধার হবে।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, আমাদের উদ্ধার কাজ চলমান। ডুবে যাওয়া ফেরির ভেতরে কিছু ফাটল থাকায় এয়ার লিফটিং ব্যাগে বাতাস দিয়ে ভাসানো সম্ভব হচ্ছে না। বাকি ট্রাক উদ্ধারের জন্য আমাদের একটি টিম সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আরও একটি উদ্ধারকারী মাল্টিবিহিম ইকোসাউন্ডার সমৃদ্ধ ঝিনাই-১ নামের বড় একটি জাহাজ নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছে। যেটা দিয়ে নদীর তলদেশে ফেরিটির অবস্থান জানতে পারব।
তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া ফেরির ওজন ২৪০ টন এবং ডুবে থাকার কারণে কাদা ও পানির ওজন নিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ টনের বেশি। তাই জাহাজ প্রত্যয় দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে একটু সময় লাগতে পারে। যেহেতু হামজা, রুস্তমের ধারণ ক্ষমতা ৬০ টন করে। যদি ফেরিটি তুলতে পারি তাহলে ট্রাকগুলি উদ্ধারে আমরা হামজা ও রুস্তমকে কাজে লাগাব।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যায় রজনীগন্ধা ফেরি। ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ায় আসার সময় ৫ নং ঘাটের কাছাকাছি এসে ডুবে যায়। ফেরিটিতে ৭টি ছোট ট্রাক ও ২টি বড় ট্রাক ছিল। দীর্ঘসময় ফেরি উল্টে গিয়ে এর বেশকিছু অংশ পানির ওপরে ভাসমান ছিল।