শেষবারের মতো ক্যাম্পাসে জয়নব, অশ্রুভেজা চোখে বিদায় সহপাঠীদের

  • রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাঙ্গামাটি থেকে নিজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয় জয়নবের মরদেহ
  • অশ্রু ভেজা চোখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়নব খাতুনকে বিদায় জানিয়েছেন সহপাঠীরা
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:২৬ এএম

কাক ডাকা ভোরে অশ্রু ভেজা চোখে অকালে ঝরে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়নব খাতুনকে বিদায় জানিয়েছেন সহপাঠীরা।

গত শনিবার বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার কেউক্রাডং-দার্জিলিং পাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি পাহাড়ের খাদে পড়ে মারা যান তিনি।

রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বন্ধু ও সহপাঠীদের অনুরোধে রাঙ্গামাটি থেকে শেষবারের মতো নিজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয় জয়নবের মরদেহ। সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায় তার সহপাঠীদের। জানাজা শেষে কুড়িগ্রামের রৌমারির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

জয়নবের বন্ধু ফারহা জেবিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘কিছু মানুষের সাথে আমরা খুব কম সময় কাটালেও তাদের খুব কাছের মনে হয়, জয়নাব সেরকমই একজন। সেদিন যদি জানতাম এটাই লাস্ট দেখা হবে, আমি হাসিখুশি মেয়েটারে একটা টাইট হাগ দিতাম, আর ছাড়তামই না। যদিও এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না; মনে হচ্ছে এখনই এসে একটা হাসি দিয়ে বলবে কেমন আছিস! এইযে দিনে দিনে আমরা মানুষ হারাই; কখন কার সাথে শেষ দেখা হয়ে যায় নিজেরাই জানি না! আল্লাহ তোকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক।‘

মাহফুজুর রহমান বলেন, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না জয়নব আমাদের মাঝে আর নেই। তাকে ক্যাম্পাসে শেষ বিদায় জানিয়েছি। তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না আমরা। তার কিসের এত তাড়া ছিল জানি না। তার মতো মেধাবী এবং দুরন্ত মেয়ে খুব কমই ছিল।‘

সুমাইয়া শিমু নামের হলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই যান্ত্রিক শহরে আমার একটা নিজের জয়নব আপু ছিলো।যার সাথে প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল নিজের মানুষ।প্রথমবার কথা বলাতেই আমাকে নিজের করে নিয়েছিল। সবসময় হাসিখুশি থাকতেন তিনি। দেখা হলেই মলিন একটা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন কেমন আছি! আমি নির্বাক, মুখের কোনো ভাষা নেই। তিনি আর আমাদের মাঝে থাকবেন না, এটা ভাবতেই পারছি না।‘

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দি‌কে রুম-কেউক্রাডং সড়কের কেউক্রাডং ও দার্জিলিং পাড়ার মাঝামাঝি চিং‌ড়ি ঝি‌রি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জয়নবের ছাড়াও ডা. ফিরোজা নামে আরেক পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

জয়নব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ সেশনের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে। একাডেমি পড়ালেখার পাশাপাশি জয়নব ছিলেন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সরব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেঞ্জার ইউনিটের সদস্য, হিমু পরিবহনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ভ্রমণ কন্যার সদস্য ছিলেন।  এছাড়াও মুভার' স নামক একটি সচেতনতামূলক সংগঠনের শুভেচ্ছাদূত  হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই শিক্ষার্থী।

বিভাগের চেয়ারম্যান শাহিরা আফরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সে একটা ট্রাভেল গ্রুপের সাথে কাজ করতেন। সেখান থেকেই বান্দরবান গিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে মারা গেছে। ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনতাম। সে যথেষ্ট ভদ্র, তীক্ষ্ণ মেধাবী এবং অনেকগুলো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আমার বিশ্বাস বেঁচে থাকলে সে অনেক ভালো কিছু করতো। তার এ ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত