গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টে বহাল

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৯ পিএম

ঢাকার গুলশান শপিং সেন্টার ৩০ দিনের মধ্যে ভাঙার ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। ফলে ৩০ দিনের মধ্যে গুলশান শপিং সেন্টার ভাঙার ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান খান। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খন্দকার নাজমুল আহসান। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ দিনের মধ্যে গুলশান শপিং সেন্টার ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিএনসিসি, রাজউকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ২৩ জুলাই রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত গুলশান শপিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পরে গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট রিট করে বাণী চিত্র ও চলচ্চিত্র নামে দুটি কোম্পানি। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।

এর আগে জরাজীর্ণ ভবন ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় ২০২১ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গুলশান শপিং সেন্টারকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ডিএনসিসিকে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়।

এ অবস্থায় ২০২১ সালে চার পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে ৩২০ কোটি টাকা পরিশোধ করে শান্তা হোল্ডিং। দোকান মালিকরা প্রতিশ্রুতি দেয় তারা ২০২২ সালের মধ্যে ভবন খালি করে দেবে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও ব্যবসায়ীরা ভবন না ছাড়ায় ডিএনসিসির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন এবং মাহবুব হাসান গত বছর ১৩ জুলাই গুলশান শপিং সেন্টার সিলগালা করে দেন। এরপর আগস্টে সিলগালা খুলে দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করে শান্তা হোল্ডিং। এতে সাড়া না পেয়ে ‘বাণী চিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সে রিটের রায়ে ঝুঁকিপূর্ণ গুলশান শপিং সেন্টার ৩০ দিনের মধ্যে ভাঙার ব্যবস্থা করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে প্রথমে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন ‘বাণী চিত্র’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়া ইয়ামিন। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ না করে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন জিয়া ইয়ামিন। শুনানির পর তা খারিজ করলেন আপিল বিভাগ।

‘বাণী চিত্র’ ও ‘চলচ্চিত্র’র আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান বলেন, ‘২০০৬ সালের চুক্তিতে শান্তা হোল্ডিংকে দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গত বছর ২৩ আগস্ট স্থগিতের নোটিশ দেন জিয়া ইয়ামিন। ফলে হাইকোর্টের রায় আইনসম্মত হয়নি দাবি করে তিনি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। এই লিভ টু আপিলের শুনানিতে আপিল বিভাগ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতামত নেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ জানায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি স্থগিতের নোটিশটি আইন অনুসারে হয়নি। যে কারণে লিভ টু আপিলটি খারিজ করা হয়েছে।’ ফলে গুলশান শপিং সেন্টার ভাঙতে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানান এই আইনজীবী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত