শরীয়তপুর শহরের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার একমাত্র মাঠ শরীয়তপুরের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্টেডিয়াম। কিন্তু মাঠটিতে দুই সপ্তাহ ধরে কোনো খেলাধুলা নেই। উল্টো মাঠ খোঁড়াখুঁড়ি করে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ওই মাঠে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বসানোর অনুমতি দিয়েছে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন অনুমতি দিলেও মেলা সম্পর্কে কিছুই জানেননা বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করে চলছে কর্মযজ্ঞ। খেলার মাঠে স্টল, ফটক, কৃত্রিম ফোয়ারা, টাওয়ার ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে সব ধরনের খেলাধুলা ও অনুশীলন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা, শেষ হবে ২৯ ফেব্রুয়ারি। মেলায় বসবে ৫৫টি টল।
আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের সিংহভাগ অংশজুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে স্টল বানানো হয়েছে। মাঠের ভেতরেও খোঁড়াখুঁড়ি করে চলছে বেশ কিছু স্টল বসানোর কাজ। মেলার প্রবেশমুখে ও মাঝখানে কিছু যায়গায় ইট দিয়ে স্থায়ী অবকাঠামোর মতো স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
যদিও খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, খেলার মাঠ অন্য কোনোভাবে ব্যবহার বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না৷
স্থানীয় রুবেলসহ অনেক খেলোয়াড়ই বলেন, খেলার যায়গায় মেলার আয়োজন করায়, এতে খেলায় অনেক বিঘ্ন ঘটছে। মেলার জন্য শরীয়তপুর জেলায় অনেক যায়গা রয়েছে, সেখানে মেলার আয়োজন করা হোক। মেলাটি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।
অভিভাবক মো. রোমান আকন্দ বলেন, মেলা হওয়ার জন্য শরীয়তপুরে তো অনেক যায়গা আছে। জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থা অন্য যায়গায় মেলার আয়োজন করুক। মেলার জন্য মাঠ খোঁড়াখুঁড়ি করছে, এতে মাঠের ক্ষতিসহ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দুই সপ্তাহ যাবত মাঠ মেলার জন্য সাজাচ্ছে। খেলার মাঠে মেলা দিলে খেলার বিঘ্ন ঘটে।
শরীয়তপুর শিল্প ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন যায়গায় মেলার আয়োজন করে থাকি। মেলাটা যদি সফলভাবে করতে পারি, ভালো লাভজনক হয় তাহলে লাভের অংশ থেকে জেলা প্রশাসক বা ক্রীড়া পরিষদে আমাদের একটা বাজেট যাবে। আর এই স্টেডিয়ামে যে অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, সেটা ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা একটি ফান্ড দিতে পারবো।
শরীয়তপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা'র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম মাদবর বলেন, আমাদের শরীয়তপুরে বিনোদন বলতে কিছু নাই। যাতে জেলাবাসী বিনোদন পায়, এ কারণে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব কোন তহবিল নেই। এখান থেকে একটি তহবিল আমাদের ক্রীড়া সংস্থার তহবিলে যাবে এটার দ্বারা শরীয়তপুরের ক্রীড়াঙ্গন উপকৃত হবে। এ কারণে আমরা মেলার করা কথা বলেছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ মোবাইল ফোনে বলেন, মেলাটা হয় কোথায়? খেলার মাঠেই তো। মাঠ ছাড়া তো কোথাও জায়গা নেই, ধান ক্ষেতে তো আর হবেনা তাই না। মেলার অনুমোদন আমরা দিয়েছি। পুলিশের অনুসন্ধান করে যেভাবে মেলার পারমিশন দেওয়া হয় সেভাবেই দিয়েছি।
শরীয়তপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, এই মেলা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেনি, আমি জানিনা। একদিন সদর ইউএনও ফোন করে বলল— জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা একটা মেলার আয়োজন করেছি, এতোটুকুই। এটা নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।
