ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ কাতার। ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গাজা যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে ‘সমস্যাপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের একটি অডিও প্রচার হওয়ার পর গত বুধবার( ২৪ জানুয়ারি) ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায় কাতার।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের এক খবরে বলা হয়, হামাসকে অর্থায়নের জন্য কাতারকে দোষারোপ করেন নেতানিয়াহু। চলতি সপ্তায় গাজায় হামাসের হাতে আটক থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কাতারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন।
চ্যানেল টুয়েলভে প্রকাশিত অডিওতে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে কখনও কাতারকে ধন্যবাদ দিতে শুনবেন না। তারা জাতিসংঘ বা রেডক্রস থেকে আলাদা নয়। বরং তারা আরও বেশি সমস্যাযুক্ত। ‘’
ভিডিওটি প্রচার হওয়ার পর বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ‘ভিডিওটি দেখার পর আমরা হতভম্ব বোধ করছি। তার (নেতানিয়াহু) এই বক্তব্য দায়িত্বহীন এবং নিরপরাধ লোকজনের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক; কিন্তু অবাক করার মতো নয়। কারণ তিনি (নেতানিয়াহু) এই যুদ্ধকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
মাজেদ আল আনসারি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ বাঁধার পর ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যস্থতার ফলাফল হলো গত নভেম্বরের অস্থায়ী মানবিক বিরতি এবং সেই বিরতির সময় শতাধিক জিম্মির মুক্তি। সবপক্ষের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা ও মধ্যস্থতা ব্যতীত এটি সম্ভব হতো না এবং কাতার এই প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাকি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য জন্য পরবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক গঠনের কাজ চলছে এবং সেখানেও পূর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে কাতার।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালের পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছোটো দেশ কাতার। তবে এই দুই রাষ্ট্রের কোনোটিই এ পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি।
ইসরায়েলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশপাশি ফিলিস্তিন এবং গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে কাতার। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হামাসের জেষ্ঠ্য নেতারা কাতারে বসবাস করছেন গত বেশ কয়েক বছর ধরে।
