রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে চলছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গত ২২ জানুয়ারি এবারের বাণিজ্য মেলার পর্দা ওঠে। মেলা শুরুর পর প্রথম শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে গেছে। এতে খুশি মেলার আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা। মাসের শেষ শুক্রবার না হলে ক্রেতাদের চাপ আরও বাড়ত বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসেন কর্মজীবী সাধারণ মানুষ। অনেকে তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন। এ দিন মেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় ভিড় ছিল বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য সময় মেলায় দর্শনার্থী হিসেবে আসতেন সাভার ও ঢাকায় বসবাসকারীরাই। তবে এদিন (২৬ জানুয়ারি) বন্ধের দিন হওয়ায় আশপাশের বেশ কিছু জেলা, যেমন- গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও কুমিল্লা থেকেও অনেকে ঘুরতে আসেন বাণিজ্য মেলায়। এদের মধ্যে অনেকেই শুধু ঘোরার উদ্দেশ্যে এসেছেন। অনেকে আবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে মেলায় এসেছেন।
অ্যালুমিনিয়ামের বিশাল পণ্যের সমাহার নিয়ে বসা দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, গত শনিবার মেলা শুরুর পর থেকে আজ ক্রেতা সবচেয়ে বেশি। তবে মাসের শেষের দিকে অনেকের হাত খালি। আমরা আশা করছি, আগামী মাসের শুরু থেকে বেচাকেনা খুব ভালো হবে।
একাধিক স্টলে কথা বলে জানা গেছে, শুরুর পর থেকে আজকের মত এতো ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা যায়নি। দর্শনার্থী অনেক বেশি বলে বিক্রিও বেড়েছে। তার আশা করছেন আগামী মাসের শুরু থেকে মেলা জমে উঠবে।
জানা গেছে, প্রতিবার মেলায় বেচা-বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিক্রেতারা নানা অফার দিয়ে থাকেন। কোনো কোনো বিক্রেতা একটি পণ্যের সঙ্গে একটি পণ্য ফ্রি দিচ্ছেন। অনেকে তাদের পণ্য প্যাকেজ (১টির সঙ্গে ৫/১০ গিফট) আকারে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ পণ্যের মূল্যের উপর সরাসরি ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মেলায় ঘুরতে আসা আতিকুর রহমান জানান, মেলায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। আজ অফিস ছুটি ছিল। মেলা ঘুরে দেখছি, কয়েকটা জিনিস কিনবো। পছন্দ হলেই কিনে ফেলব।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইবিপি) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ৩৩০টি, যা গত বছর ছিল ৩৩১টি। এবারের মেলায় ভারত, পাকিস্তান, হংকং, তুর্কিসহ অন্তত ১৮ থেকে ২০টি দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ আসরে মেলার প্রধান ফটকটি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেলের আদলে। গত আসরে মেলার বড়দের প্রবেশ ফি ৪০ টাকা থাকলেও এবার তা ৫০ টাকা করা হয়েছে। আর শিশুদের প্রবেশ ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা ধরা হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আর ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলছে। রাজধানীর ফার্মগেট ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য আলাদা বাস ছাড়বে। এ জন্য ফার্মগেট থেকে ৭০ টাকা ও কুড়িল থেকে ৩৫ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে দর্শনার্থীদের।
গাজায় গণহত্যা বন্ধে ইসরায়েলকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ
বর্তমান সংসদ ঠিক লোকাল বাসের মতো: এবি পার্টি
ফখরুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে কারাগারে স্ত্রী-মেয়ে