একাধারে সংগীত, সাহিত্য ও উপস্থাপনায় বিচরণ তার। সংগীত পরিচালক হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বছর জুড়েই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সরব থাকেন। এ বছর তার সুরে বেশ কজন সিনিয়র শিল্পীর কণ্ঠে গান মুক্তি পাবে। সবকিছু নিয়েই তানভীর তারেকের মুখোমুখি হয়েছেন ইমরোজ বিন মশিউর
বলা হয়, একাধিক মাধ্যমে বিরাজমান থাকলে কোনোটিই ঠিকঠাকমতো মনোযোগ দিয়ে করা হয় না। আপনার ব্যাখ্যাটা শুনতে চাই ধন্যবাদ।
এই অভিযোগটা অনেকেই করেন। কিন্তু আপনি হয়তো ‘মনোযোগ’ শব্দটি সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়ার সমীকরণে করেছেন। কিন্তু আমি কাজ করি, আমার সৃজনশীল চর্চার আনন্দে। আমাকে সাহিত্য রচনা করে বেস্ট সেলার হতে হবে বা গান প্রকাশ করে, টিভিশো করে ভাইরাল হতে হবে সেই মনোনিবেশে আমি কাজ করি না। করতেও রাজি নই। আমি চাই, সমাজের কিছু গুণী মানুষেরা যেন ভালো বলেন। কেউ যেন না বলে ফেলেন, কাজগুলো মানহীন, কদর্য। তাই আমার এমন বিচ্ছিন্নতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনে কাজ করতে ভালো লাগে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পরে আপনার গান রিলিজের সংখ্যা কমে গেছে। এটা কেন? সেরা প্রাপ্তির পর কি আগ্রহ কমে যায়?
হাহাহা। দেখুন। আমি কোনোকালেই খুব ব্যস্ত সংগীত পরিচালক ছিলাম না। আর আমৃত্যু আমার মূল কৌতূহলে সংগীতটাই রয়েছে। এই মিউজিক করার জন্যই গ্রাম থেকে ঢাকায় আসার আমার। তবে একটা দুঃখের কথা শেয়ার করি। এটা এ দেশে অনেকের ক্ষেত্রেই এ রকম হয়েছে শুনেছি। আমার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির পর দুটি চলচ্চিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরিচালককে কেউ কেউ বলেছেন তানভীর তো ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়ে গেছে। অন্য কাউকে দিন। আমার যে মুভিটির কাজ করে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। ওইটাও তো কোনো অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির এজেন্ডা নিয়ে কাজ করিনি। এরপরও আমি দমে যাওয়ার পাত্র নই। দুটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলাম। আরও একটি ফিল্মের কাজের কথা চলছে। অ্যাডভান্সও নিয়েছি। কিন্তু ছবির নাম প্রযোজকের নাম কিছু বলতে চাই না এখন। বললেই কাজ থেকে নানান পলিটিক্স শুরু হবে। আপনি দেখবেন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ কমে গেলে কূটতর্ক বাড়ে।
আপনার কম্পোজিশনে নতুন কী কী কাজ আসছে?
বেশ কিছু কাজ আসবে। আমার সুর ও সংগীতে প্রয়াত কিংবদন্তি সুবীর নন্দীর গাওয়া দুটি গান রিলিজ দেব। এ ছাড়া রবি চৌধুরীর দুটি গান বাঁধছি। তারান্নুমের কণ্ঠে আমার কথা সুর সংগীতে আসবে একটি গান, গজল শিল্পী মেসবাহ আহমেদের কণ্ঠে আসবে একটি গান। আমার কণ্ঠে দুটি গানের কাজ শেষ, সেগুলোও রিলিজ দেব।
অভিনেতার খাতাতেও নাম লেখালেন
এটা কাকতাল, একই সঙ্গে সৌভাগ্য বলতে পারেন। আফজাল ভাইয়ের ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ ছবিতে আমি সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। তার মতো বরেণ্য মানুষের প্রথম চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালক হিসেবে আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছেন, এটিই আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি। চিত্রনায়ক ফেরদৌস, সোহানা সাবাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছি। আফজাল ভাই যেভাবে যা করতে বলেছি, তাই করেছি। কেমন অভিনয় করেছি তা দর্শকরা বলতে পারবেন। তবে আফজাল ভাই ‘অ্যাকশন’ বলা মাত্রই আমরা গলা শুকিয়ে আসছিল, হাত-পা অবশ হয়ে পড়ছিল। অভিনয় খুবই কঠিন একটি কাজ!
ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে আপনি সরব এ বিষয়ে বলুন
আমরা এ বছর শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করব। সেই প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া আমার একটি অডিটরিয়াম শো করার প্ল্যান রয়েছে এবং নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার করার প্রস্তুতি। সচরাচর সবাই যে পথে হাঁটে। তা কখনোই করতে চাইনি। আমি আজ থেকে ৮ বছর আগে ভিডিও নিউজ কনটেন্ট শুরু করেছিলাম, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছিল। আজ প্রতিষ্ঠিত সব চ্যানেল থেকে শুরু করে সবাই করছে। কোলাহলের নিজস্ব প্রযোজনায় ৫০ এপিসোডের গিটার, পিয়ানো ও ক্লাসিক্যাল শেখার কোর্স তৈরি করছি। যা এ বছরের ভেতরে কোর্সভিত্তিক কনটেন্ট হিসেবে দর্শকরা কিনে শিখতে পারবে।
