ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার সঙ্গে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত, এমন অভিযোগ ওঠায় সংস্থাটির অর্থায়ন স্থগিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইতালি। তাদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও যোগ দিয়েছে। গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এসব তথ্য নিশ্চিত করে।
গত শুক্রবার ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল হামাসের ভয়াবহ হামলায় ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত, তাদের কাছে এমন অভিযোগ জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের এমন অভিযোগের পরপরই সংস্থাটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে।’
বিবিসি জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের পর ইউএনআরডব্লিউএকে অর্থ দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ইসরায়েলের এ অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে কানাডাও।
কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, ‘৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিন্দা জানিয়েছে কানাডা। এ হামলার সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পর ইউএনআরডব্লিউএকে তহবিল স্থগিতের কথা জানিয়েছে ইতালিও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘মিত্র দেশগুলো সম্প্রতি একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার জন্য মানবিক সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; কিন্তু পাশাপাশি ইসরায়েলের নিরাপত্তাও রক্ষা করে চলি।’
এদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলছে, ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএসহ জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে “উসকানিমূলক প্রচারণা” চালাচ্ছে এবং গাজায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়।’
এ নিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গত বছর ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ঢুকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউএনআরডব্লিউএ তাদের কয়েকজন স্টাফকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলো এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘের এই ত্রাণ সংস্থাটি গত শুক্রবার কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে হামাসের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়। এরপরই এই সংস্থায় অর্থায়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বাকি দেশগুলো একই পথে হাঁটল।
ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এমন খবরে হতবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইউএনআরডব্লিউএ স্টাফদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ শুনে যুক্তরাজ্য বিস্মিত হয়েছে। হামাসের ওই হামলাকে জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বরাবরই নিন্দা জানিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্য সরকার।’ দেশটি বলছে, তারা উদ্বেগজনক এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বলেছে, তারা পূর্ণ তদন্তের ফলের ওপর ভিত্তি করে করণীয় ঠিক করবে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
