অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাটি নিজের করেই রাখলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। সঙ্গে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার আনন্দে ভাসলেন বেলারুশের এ তারকা। মেলবোর্ন পার্কের ফাইনালে বিশ্বের ১২তম বাছাই চীনের কিনওয়েন ঝেংকে কাল যেন দাঁড়াতেই দেননি তিনি। সরাসরি সেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা নিজের করে নেন বিশ্বের দ্বিতীয় বাছাই সাবালেঙ্কা।
সাবালেঙ্কা প্রথম সেটটি জিতে নেন ৬-৩ গেমে, তাও আবার মাত্র ৩৩ মিনিটের মাথায়। দ্বিতীয় সেটে আরও আগ্রাসী রূপে হাজির হন। প্রথম ৬ গেমের ৫টিই জিতে নেন। ৭ম গেমটি জেতের ঝেং। শেষের আগে বাকি ছিল কিছু নাটকের। এই সেটের শেষ দিকে চারবার চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট সেভ করেন ঝেং। তাতে অবশ্য কিছুটা দেরি করানো ছাড়া আর কিছু হয়নি। আর পরের গেম জিতে ৬-২ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেটটিও নিজের করে নেন তিনি। ২০১৩ সালের পর প্রথম কোনো নারী খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা ধরে রাখলেন সাবালেঙ্কা। ওই বছর তারই বেলারুশিয়ান পূর্বজ ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা এই একই কীর্তি গড়েছিলেন।
সাবালেঙ্কার এটি তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ছাড়াও গত বছর ইউএস ওপেনের ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফের কাছে হেরেছিলেন ওই ফাইনাল। এ আসরে সেমিতেই গফকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন সাবালেঙ্কা। আর ফাইনালে আরও দাপুটে টেনিস উপহার দিয়ে জিতে নেন শিরোপা। এতটাই দাপুটে যে ৭৬ মিনিটের ম্যাচে তিনবার নিজের সার্ভ না হারিয়েই ঝেংকে পরাস্ত করেন। তাতে তিনি পঞ্চম নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে পাশে বসেন লিন্ডসে ডেভেনপোর্ট, মারিয়া শারাপোভা, সেরেনা উইলিয়ামস ও অ্যাশ বার্টির পাশে।
প্রথমটি জেতার ঠিক এক বছর পর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে সাবালেঙ্কা যে হুংকার ছাড়েন তাতে স্তব্ধ হতে হয় মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার অ্যারেনায় উপস্থিত সবাইকে। ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পরে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘অসাধারণ দুটি সপ্তাহ কাটালাম। বিশ্বাসই করতে পারছি না আমি এই শিরোপাটি আরও একবার তুলে ধরছি। একটি অভাবনীয় মুহূর্তের মধ্যে আছি। আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ।’
নিজের দল, সমর্থক ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সাবালেঙ্কা। বলেন, ‘আমার বক্তব্যে আমি কখনো পরিবার নিয়ে আসি না। কিন্তু এবার আমি ধন্যবাদ দেব সবকিছু করার জন্য। আমি তোমাদের ভালোবাসি। তোমরাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। দর্শকদের বলব। গত দুই সপ্তাহ আমাকে সমর্থন দেওয়ায় জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের সামনে খেলতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।’
ক্যারিয়ারে প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন ২১ বছর বয়সী চীনের ঝেং। সাবালেঙ্কা ঝড়ের সামনে তিনি দাঁড়াতেই পারেননি। ঝেংকে অনুপ্রেরণা দিতে ভোলেননি সাবালেঙ্কা, ‘আমি জানি এমন পর্যায়ে এসে হারের পর অনুভূতিটা কেমন হয়। কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। তুমি অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড়। তুমি আরও অনেক ফাইনাল খেলবে। সে সময় অধরা স্বপ্ন ঠিকই ধরা দেবে।’ ভোরের সূর্য যেমন দিনের আভাস দেয়। ২৫ বছর বয়সী আরিনা সাবালেঙ্কা বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নিয়ে তেমন আভাসই দিয়ে রাখলেন।
