বড় ম্যাচে মাঝারি সংগ্রহ রংপুরের

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:০৩ পিএম

চোখের সমস্যাটা এখনও সমাধান হয়নি সাকিব আল হাসানের। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও ব্যাট হাতে নামলেন না তিনি। তাতে অবশ্য রংপুর রাইডার্সের খুব একটা অসুবিধা হয়নি। বড় প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে তারা দিয়েছে ১৬৬ রানের লক্ষ্য।

২০ ওভারে রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৬৫ রান। ১৫ ওভারে ৯৭ ছিল তাদের। শেষ পাঁচ ওভারে তাণ্ডব চালান আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তাতেই মাঝারি এই পুঁজি পায় রাইডার্সরা।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামা রংপুরের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারেই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং হারিয়ে বসেন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভার ৪ রান খরচায় শেষ করলেও পরের ওভার করতে এসেই সাফল্য পান স্পিনার তানভীর ইসলাম। বড় শট খেলতে এগিয়ে এসে স্টাম্পড হয়েছেন ১৪ রানে থাকা কিং।

বাবর আজমকে ৩৭ রানে বোল্ড করে দেন খুশদিল শাহ। ছবি: দেশ রূপান্তর

এরপর বাবর আজমকে সঙ্গ দিতে আসেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। এই জুটিতে ৫৫ রান যোগ হলেও, রান ওঠেছে ধীরগতিতে। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভার করতে এসে আলিস আল ইসলাম খরচ করেন ১৯ রান। ফলে ৪৭ রান তোলে শুরুর পাওয়ার প্লে শেষ করে বাবর আজম, ফজলে রাব্বি। এই জুটি জমে গিয়ে চোখ রাঙানি দিচ্ছিল কুমিল্লাকে। তখনই ত্রাতা হয়ে খুশদিল শাহর আগমন।

খুশদিল নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই কুমিল্লাকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু। খুশদিলের আর্ম বলে কাট শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ বাবর আজম, হারিয়েছেন স্টাম্প। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে আরও এক ধীরগতির ইনিংস খেলে যান বাবর। তার ৩৭ রানের ইনিংস আসে ৩৬ বলে, ৪ চার ও ১ ছক্কায়। বাবরের বিদায়ের পর ফজলে রাব্বিও টিকে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। মুস্তাফিজুর রহমান পান প্রথম উইকেটের দেখা। ফজলে মাহমুদ রাব্বির ব্যাট থেকে অবশ্য ৩০ রান আসে ২১ বলে।

এরপর শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই মিলে রংপুর রাইডার্সের সংগ্রহ টানতে থাকেন। শামীম পাটোয়ারী অবশ্য শুরু থেকেই ছিলেন বেশ ধীরগতির, একসময় ১২ বলে তার নামের পাশে ছিল ৬ রান। এরপর রানের গতি বাড়ানো আর বাউন্ডারির চাহিদায় দ্রুতই বিদায় নিতে হয় শামীমকে। ১৬ ওভার শেষে টাইম আউট থেকে ফিরেই শামীম সহজ ক্যাচ তুলেন লিটনের হাতে, রেমন রেইফার পান এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম উইকেট। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে ১৭ করা শামীম আজ উইকেট হারান ১৪ রানে। ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলা যেন ভুলে গেছেন এই সম্ভাবনাময় ব্যাটার।

নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ নবী ১৯ তম ওভারের প্রথম দুই বলে চার ও ছয় হাঁকিয়ে ভয়ংকর রূপ নেন, তবে তার এই ঝড় বেশিসময় স্থায়ী করতে দেননি রেমন রেইফার। তৃতীয় ডেলিভারিতেই উপড়ে ফেলেন স্টাম্প। ৭ বলে ১৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় নবীকে। তবে কুমিল্লার বোলারদের কেউ আর থামাতে পারেনি আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে। ইনিংস শেষ করে তিনি এদিন মাঠ ছাড়েন। ২০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রানের ক্যামিও ইনিংস। 

অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান শেষ বেলায় ৬ বলে ১৫ করে দলকে এনে দেন লড়াই করার মতো সংগ্রহ। শেষ পাঁচ ওভারে ওমরজাই, নবী ও সোহানের ব্যাটিং ঝড়ে ৬৮ রান পেয়েছে রংপুর রাইডার্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত