নীতিমালা ছাড়া শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা কেন করা হবে না রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ডিসেম্বরে করা এসংক্রান্ত এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ রিট মামলার বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলেন হাইকোর্ট।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
এর আগে, গত ০৭ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফৌজদারি আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তা কার্যকরে আইনি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেছিলেন। এতে দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ (১) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আবেদনের বরাতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের এ বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা, সংবিধানে ৩৫ অনুচ্ছেদে বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণে কারও সঙ্গে নিষ্ঠুর ও আমানবিক আচরণে বিধি নিষেধ রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদ, ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি, ১৯৮৪ সালের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনে প্রাণদণ্ডের মতো সাজাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ সকল আন্তর্জাতিক দলিলে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিধান পালন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের ১১২টি দেশ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে।
অ্যাডভোকেট ইশরাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের আইন ও সাজার ধারণা এসেছে ব্রিটিশদের তৈরি আইন থেকে। কিন্তু সেই বৃটেনে কিন্তু এখন আর মৃত্যুদণ্ডের সাজা নেই। আমাদের দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে বছরের পর বছর একজন আসামি কনডেম সেলে জীবন কাটান। আবার সাজা চূড়ান্ত হলে ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতিও কিন্তু শারীরিক ও মানসিকভাবে পীড়াদায়ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাগের মাথায় বা পরিকল্পিতভাবে কাউকে খুন করলে আসামিকেও যদি আমরা ঠাণ্ডা মাথায় মেরেই ফেলি তাহলে এটা হবে একটা নিষ্ঠুর পীড়াদায়ক ক্রিয়া যা আমাদের সংবিধান কোনোভাবেই সমর্থন করে না। আর এখন কিন্তু যাবজ্জীবনের সংজ্ঞায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিধান আছে। আপিল বিভাগের রায়ের পর বিচারকেরা যদি মনে করেন যে, কোনো আসামি জঘন্য অপরাধ করেছেন তাহলে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিতে পারেন।’
