পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও বেসামরিক নাগরিকের ছদ্মবেশে ঢুকে তিন ফিলিস্তিনিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে ইসরায়লের সামরিক বাহিনী। এর মাধ্যমে গত ৮ বছরের মধ্যে প্রথমবার ছদ্মবেশী অভিযান পরিচালনা করেছে তারা।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানান, সকালে ইবনে সিনা হাসপাতালে অভিযানের পর রক্তে ভেজা একটি বালিশে বুলেটের ছিদ্র দেখতে পান তিনি। আর এর পাশেই নিহতদের মরদেহ ঘিরে ছিলেন ফিলিস্তিনিরা। নিহতরা হলেন মুহাম্মদ জালামনাহ, মুহাম্মদ আয়মান গাজাবী এবং বাসেল আয়মান গাজাবী। জানা গেছে, হামলায় সময় তারা ঘুমাচ্ছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, জেনিন ও এর আশপাশের শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দাদের সেবা দেওয়া একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘হামাসের সন্ত্রাসী সেল’ আছে। এই সেলকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতালে ঢোকে। নিহতরা রোগীর বেশে হাসপাতালে লুকিয়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করে তারা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী এই আইন লঙ্ঘন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা চিকিৎসক ও বেসামরিক নাগরিকের পোশাক পরে হাসপাতালে ঢুকছে। এ সময় অনেকে হুইলচেয়ার, এমনকি বাচ্চাদের বহনকারী গাড়িও ব্যবহার করে।
ইবনে সিনা হাসপাতালের পরিচালক নাজি নাজ্জাল বলেছেন, একদল ইসরায়েলি সেনা গোপনে হাসপাতালে ঢুকে পুরুষদের হত্যা করেছে। এ সময় তারা সাইলেন্সার লাগানো অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও জানান তিনি।
এই হামলার পর এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর এ অপরাধের জবাব দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের এই হামলা গাজা থেকে জেনিন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরায়েলের অব্যাহত অপরাধের ধারাবাহিকতা। নিহতদের একজন হামাসযোদ্ধা বলেও নিশ্চিত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
