শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে ক্রিকেটের তারকা হওয়ার আখ্যান

বয়সে ফাঁরাক থাকলেও রোমারিও শেফার্ড ও শামার জোসেফ দুজন বন্ধু। গহীন থেকে উঠে আসা এ দুই বন্ধুর ক্রিকেট অঙ্গনে দ্যুতি ছড়ানোর পেছনের গল্প উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে।

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪০ পিএম

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট এখন আচ্ছন্ন হয়ে আছে অস্ট্রেলিয়ার গ্যাবায় অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের মোহে। এ নাটকে বীরের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্ব ক্রিকেটে উথ্বান ঘটেছে এক পেসার- শামার জোসেফের। সারা দেশ যেখানে শামারের কৃতিত্বে গর্ববোধ করছে সেখানে একটি মানুষের আনন্দের সীমা আর সবার চেয়ে মাত্রা ছাড়ানো। তিনি হলেন রোমারিও শেফার্ড।

রোমারিও এবং শামারের বয়সে পাঁচ বছরের ব্যবধান। তবে তারা আজীবন বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবেই বেড়ে উঠেছেন। উত্তর-পূর্ব গায়ানার একই বারাকারা এলাকার বাসিন্দা তারা। দুজনেরই শৈশবের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল বিখ্যাত ক্যাঞ্জে ক্রিক।

উইন্ডিজ দলের সাদা বলের দলে নিয়মিত মুখ রোমারিও শেফার্ড অনুজ শামারকে নিয়ে বলেছেন, ‘তার আগমন বিশেষ কিছু। আমি বা আমরা কেউ যদি বলি যে এটি হওয়ার ছিল তাহলে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু আমি নিয়তিতে বিশ্বাস করি। এবং এটাই শামারের নিয়তিতে ছিল। ওর এই সফরটা অবিশ্বাস্য। আমি ভীষণ খুশি।’

শেফার্ড যোগ করেন, ‘সে অনেক দূর যাবে। কারণ আমি জানি সে খুব কঠোর পরিশ্রম করে, এবং তার হৃদয় অনেক বড়। আমি বলতে চাচ্ছি, একটি ফেটে যাওয়া পায়ের আঙুল নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় দৌড়ানো এবং বল করতে দেখে কে তার হৃদয় ও সাহস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে।’

শামারের ১২ ওভারের চাঞ্চল্যকর স্পেলে চূর্ণ হয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।  পায়ের চোট আর ব্যাথানাশক ইনজেকশন নিয়ে শামার শিকার করেন সাত উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গোলাপী বলের টেস্টের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ২৭ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় আট রানের জয়। রোমারিও এই পারফরম্যান্সকে স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বকালের সেরা কিছু পারফরম্যান্সের সাথে থাকবে এটি।’

উইন্ডিজের হয়ে ২৮টি ওয়ানডে এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি খেলা রোমারিওর অবদান রয়েছে শামারের এ পর্যায়ে আসার পেছনে। ২৪ বছরের শামার ক্রিকবাজকে নিজেই বলেছেন সেই কথা, ‘মারিও শেফার্ডই আমাকে গায়ানা দলে নিয়ে আসে। উনিই আমাকে দেখান ক্রিকেট কাঠামোটি আসলে কেমন। একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে তিনি আমার অনুপ্রেরণা। আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সর্বদা আমাকে চালিয়ে যেতে এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। উনিই বলেছেন আমি যা অর্জন করতে চাই তা একসময় ধরা দেবে। তিনি দারুণ একজন মানুষ। আপনি যা করতে চান সে ব্যাপারে আগেথেকেই চিন্তা ভাবনা করে দেবেন।’

আমন তারকা খ্যাতির পর পা মাটিতেই রাখতে চান শামার। এখানেও তার অগ্রজ বন্ধু রোমারিওর কথা মেনে চলতে চান তিনি। ‘শামারের জন্য আকাশটাই হলো তার সীমা। তাকে আমার পরামর্শ হল কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাও, সবসময়ের মতো অনেক প্রশ্ন করো। নিয়মানুবর্তী থাকো এবং সবসময় খেলাটাকে সম্মান করো। মজা করতে ভুলবে না। এই কারণেই আমরা সবাই ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছি।’

প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এলেও শেফার্ড–জোসেফরা আজকের তারকা ক্রিকেটার। তাদের মতো ভালোবাসা সম্পন্ন খেলোয়াড়দের হাত ধরে এগিয়ে যাক আধুনিক ক্রিকেট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত