‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ফারুকের মৃত্যুতে আসামি ৫ পুলিশ

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৭ এএম

হেফাজতে নির্যাতনের কারণে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাত বডি বিল্ডার ফারুক হোসেনের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগে বংশাল থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার স্ত্রী।

গত মঙ্গলবার ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার হ্যাপী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে মামলাটি করেন। গতকাল বুধবার আদালত অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ২৮ মার্চ প্রতিবেদন দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, বংশাল থানার ওসি মাইনুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুল হক, আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদ।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।’

আরজিতে বাদী হ্যাপী অভিযোগ করেছেন, গত ১২ জানুয়ারি তার স্বামী ফারুক রাত সাড়ে ১০টার দিকে কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে আটক করে নির্যাতন করছে বলে তাকে ফোনে জানান। তাদের বাসা লালবাগের খাজে দেওয়ান সিং লেনে। এই খবর পেয়ে তিনি ফাঁড়িতে ছুটে যান এবং গিয়ে দেখেন তার স্বামীকে মারধর করে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ তাকে জানায়, তার স্বামী বড় অপরাধী। তাকে ছাড়া যাবে না। তিনি অভিযুক্ত কয়েকজনের পা ধরে আকুতি ছেড়ে দেওয়ার জন্য জানালে তারা ঘুষ দাবি করেন এবং তাকে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি এতে রাজি হননি। পরে বংশাল থানার ওসি মাইনুল তার স্বামীকে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে যান এবং তাকে পরদিন আদালতে যোগাযোগ করতে বলেন।

হ্যাপী আরজিতে বলেছেন, পরদিন আদালতে গেলে তাকে মারধরের কথা জানান ফারুক। তার বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাঁজার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।

পরে ১৫ জানুয়ারি সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তি হ্যাপীকে জানান, ফারুক মারা গেছেন।

মামলায় হ্যাপী বলেছেন, হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ দেখতে পান। ফারুকের গলায়, বুকে, পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত