'নিজ ক্ষমতাবলে' ইউনিয়ন পরিষদের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোকসা উপজেলার ০৭ নম্বর গোপগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে।
আজ শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেহগনী ও একটি বকুল ফুলের গাছ কাটছেন গাছকাটা শ্রমিক। আর গাছ কাটার তদারকি করছেন ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার শহিদুল ইসলাম। এলাকাবাসীর কাছে যিনি চেয়ারম্যানের 'বিশ্বস্ত চামচা' বলেই পরিচিত।
দফাদার শহিদুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই পরিষদ চত্বরের গাছ কাটা হচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে পারব না। চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি জানাতে পারবেন।
চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিষদের সীমানাঘেঁষা গাছ কেটে প্রাচীর নির্মাণ করা হবে বলে গাছ কাটা হচ্ছে। গাছ কাটার ব্যাপারে পরিষদে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি-না বা রেজ্যুলেশন হয়েছে কি-না অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছুই করা হয়নি। তাহলে বেআইনিভাবে আপনি গাছ কাটতে পারেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন- বিষয়টি আমার ভুল হয়ে গেছে।
সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন বাসিন্দা ইউনুস আলী নামে এক ব্যক্তি একই রকমভাবে পরিষদের একটি গাছ কাটে। বিষয়টি তৎকালীন ইউএনওকে জানালে, তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে পাঠিয়ে পরিষদের জায়গা মাপামাপি করে গাছটি পরিষদের সীমানার মধ্যে হওয়ায় গাছের কাঠ উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন সেই গাছের কাঠ নিজের বাড়ির আসবাবপত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করেন।
খোকসা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, গাছ কাটার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে গাছ কাটতে পারেন না, এটা বেআইনি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
