মেলায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৭ এএম

বইমেলা শুধু বইয়ের মেলা নয়; বরং তা আমাদের ঐতিহ্যেরও ধারক এবং বাহক। সেই ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতি বছরই অমর একুশে বইমেলায় নির্মাণ করা প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে দেখা যায় বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ। গ্রামীণ পরিবেশ, রিকশাচিত্র, সুপারবোর্ড কিংবা ককশিটসহ নানা উপকরণ দিয়ে এসব স্টল কিংবা প্যাভিলিয়ন বৈচিত্র্যময় করে তুলতে প্রকাশনীগুলোর কমতি থাকে না। ব্যতিক্রম হয়নি এ বছরও; বিশেষ করে প্যাভিলিয়নগুলোর নান্দনিকতা আলাদা নজর কাড়ছে সবারই।

বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ঢুকলে চোখে পড়বে নান্দনিক এক গ্রামীণ বাড়ির। বিভিন্ন জাতের কাঠ, প্লেইনশিট ইত্যাদি দিয়ে তৈরি কারুকাজ মিশ্রিত আকাশ প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নে চোখ আটকে যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কাঠ ও টিনের বাড়ি-ঘরের আদলে তৈরি প্যাভিলিয়ন ঘিরে পাঠক-দর্শনার্থীদের সরব অবস্থানও দেখা যায়। তারা তুলছেন ছবি-সেলফি। আকাশ প্যাভিলিয়নের ব্যবস্থাপক রায়হান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক পাঠক আসছেন, ছবি তুলছেন, বইও কিনছেন। আমাদের বেশ ভালো অনুভূতি হচ্ছে।

গ্রামীণ পরিবেশের নান্দনিকতা ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলেছে নবান্ন প্রকাশনী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অস্থায়ী বসবাসের মাচাং ঘরের আদলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্যাভিলিয়ন। এ ছাড়া এবারও ব্যতিক্রমী ও নজরকাড়া আয়োজন করেছে অন্যপ্রকাশ। তাদের প্যাভিলিয়নকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করেছে ঐতিহ্যবাহী ‘রিকশাচিত্র’। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ‘রিকশাচিত্র’র এমন সুন্দর আয়োজনকে উপভোগ করছেন বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীরাও। এই প্যাভিলিয়নটিকে ঘিরে ভিড় করছেন তারা। এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের ব্যাপারে অন্যপ্রকাশের ম্যানেজার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘রিকশাচিত্রের পরিকল্পনাটি আমাদের প্রকাশকের। মূলত অমর একুশে বইমেলায় আমাদের প্যাভিলিয়নের সৌন্দর্য বাড়াতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।’ কথা হলো এই স্টলের সামনে সেলফি তুলতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকার সঙ্গে। ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছিলেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রিকশাচিত্রের আদলে করায় এই প্যাভিলিয়ন বেশ নজর কাড়ছে। তাই কয়েকটি ছবি তুললাম নিজের।’

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কার্জন হলের আদলে সাজানো মিজান পাবলিশার্সের প্যাভিলিয়নটি আলাদা নজর কেড়েছে। প্রচুর পাঠক ও দর্শকও আসছেন প্যাভিলিয়নটিতে। বিক্রয়কর্মী রাফি বলেন, ‘ভিন্নরূপে প্যাভিলিয়নটি সাজানো হয়েছে। ফলে পাঠক, ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বেশি। বই বিক্রিও বেশ ভালোই হচ্ছে। প্যাভিলিয়নের সামনে সবাই ছবি তুলছে, তাতে আমাদের ভালো প্রচারণা হচ্ছে; বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশি উপভোগ করছেন।’

কাকলী প্যাভিলিয়নে প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছেন জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। স্থপতি সাঈদ খন্দকারের নকশায় সংবেদ এবং তৌফিকুর রহমান খানের নকশায় ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের স্টলও নজর কেড়েছে সবার। এ ছাড়া কথাপ্রকাশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, দেশ পাবলিকেশন, অনন্যা প্রকাশনী, পুথিনিলয়, নালন্দাসহ বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়ন নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও নান্দনিক স্টলের জন্য বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারের। জানানো হয়েছে, এ বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছিল উরকি, নবান্ন এবং পুথিনিলয় প্রকাশনী।

অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন গতকাল শনিবার বইপ্রেমীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন স্টলে ভিড় দেখা যায় দর্শনার্থীদের। ছুটির দিন থাকায় শিশুপ্রহর থেকে শুরু করে মেলার প্রতিটি চত্বর বইপ্রেমীদের পদচারণে মুখরিত ছিল। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৭৪টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্বিশতজন্মবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : মাইকেল মধুসূদন দত্ত’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খসরু পারভেজ এবং হোসনে আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা।

আজকের সময়সূচি : আজ ৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার অমর একুশে বইমেলার চতুর্থ দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : কাঙাল হরিনাথ মজুমদার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন তপন মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন জাফর ওয়াজেদ এবং আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুনতাসীর মামুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত