বরগুনার আমতলীতে আলোচিত তানজিলা হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অপহরণকারী হৃদয় খানের মুক্তিপণ দাবি করা মোবাইলের সূত্র ধরেই এ রহস্য উদঘাটন হয়। অপহরণকারী হৃদয় খান ও জাহিদুল খান মাদ্রাসাছাত্রী তানজিলাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। পরে তানজিলার বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই দাবিকৃত টাকা না পেয়েই অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে।
আসামি হৃদয় ও জাহিদুল পুলিশের কাছে এ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এঘটনায় বুধবার রাতে আমতলী থানায় হৃদয় খান, জাহিদুল খানসহ আরও অজ্ঞাত তিনজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতকদের কঠোর শাস্তি দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মানববন্ধন করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার পুঁজাখোলা গ্রামের তোফাজ্জেল খানের মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা তানজিলাকে সোমবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে চাচাতো ভাই হৃদয় ও জাহিদুল অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি বাড়িতে রেখে তারা অপরূতাকে ধর্ষণ করে। ওই দিন রাতেই অপহৃতার বাবা তোফাজ্জেল খানের কাছে হৃদয় তার মোবাইল থেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। বাবা তোফাজ্জেল খান মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব করে। পরে তারা তানজিলাকে হাত-পা বেঁধে গলায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে হত্যা করে। শুধু হত্যাই নয়, তানজিলার মরদেহ পুঁজাখোলা খালের চরে কাদামাটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এঘটনায় মঙ্গলবার তানজিলার বাবা তোফাজ্জেল খান আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ হৃদয় খানকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে অপহরণের দুদিন পরে তানজিলার বাড়ির সামনে খালের চর থেকে বুধবার দুপুরে তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে তানজিলার বাবা তোফাজ্জেল খান বাদী হয়ে হৃদয় এবং জাহিদুলসহ আরও অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালতে বিচারক মো. আরিফুর রহমানের কাছে আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ওই দিন বিকেলে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
