বিএসএমএমইউ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি অভিযোগ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

ভুক্তভোগী অধ্যাপক জানিয়েছেন, অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সবুজ তাকে তার রুমে বিভিন্ন সময়ে ডাকেন এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণ করবেন বলে জানান। হাসপাতালের অংশীদার হতে ভুক্তভোগীকে অনুরোধ করেন শহীদুল্লাহ সবুজ। এজন্য তার কাছ থেকে টাকা নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাতে ভুক্তভোগীকে তার কক্ষে ডেকে এনে অশ্লীল কুপ্রস্তাব দেন, শ্লীলতাহানি করেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ থানার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বজলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন তার সহকর্মী চিকিৎসক। আজ মামলা দায়েরের পর আমরা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেপ্তারে কাজ করছি।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বিএসএমএমইউয়ের মনোরোগ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। হাসপাতালে কর্মরত থাকার সময় বিএসএমএমইউয়ের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল্লাহ সবুজ তাকে তার রুমে বিভিন্ন সময়ে ডাকেন এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণ করবেন বলে জানান। হাসপাতালের অংশীদার হতে ভুক্তভোগীকে অনুরোধ করেন শহীদুল্লাহ সবুজ। এ ছাড়া শহীদুল্লাহ সবুজ এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাতে ভুক্তভোগীকে তার কক্ষে ডেকে এনে অশ্লীল কুপ্রস্তাব দেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক সিনিয়র হওয়ায় চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কাউকে কিছু বলেননি। এরপরও অভিযুক্ত চিকিৎসক যখন হাসতালে নিজ কক্ষে একা থাকতেন, তখন নানা কাজের অযুহাতে ভুক্তভোগীকে আসার জন্য ডাকতেন। তখন তার ডাকে সাড়া না দিয়ে ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ সবুজের কক্ষে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন।

এর মধ্যে হঠাৎ একদিন অভিযুক্ত চিকিৎসক তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসককে জড়িয়ে ধরে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে নেন। এই ছবিকে পুঁজি করে ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ সবুজ বিভিন্ন সময় ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অভিযুক্ত ডা. শহীদুল্লাহ সবুজকে হাসপাতালের অংশীদারিত্ব বাবদ দুই দফায় ২০ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি হাসপাতালের বি-ব্লকের অ্যালামনাই রুমে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ সবুজ ওই নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব দিয়ে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় জোরপূর্বক ভুক্তভোগীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় তিনি। নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার করলে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ সবুজ। সে সময় শহীদুল্লাহ সবুজ ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসককে জড়িয়ে ধরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং পরিবারের লোকজনের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। বিষয়টি নিয়ে মানসম্মানের ভয়ে তাৎক্ষণিক চুপ থাকেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী সহকারী অধ্যাপক সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডা. শহীদুল্লাহ বিভিন্ন সময় রুমে ডেকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন। আমার সিনিয়র, তাই চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে আমি শুরুতে কিছুই জানাইনি। তারপরও বিভিন্ন কাজের অজুহাতে যখন রুমে একা থাকতেন, আমাকে তার রুমে আসার জন্য ডাকতেন। আর প্রায় দিনই আমি এড়িয়ে যেতাম। আমার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিবারের কাছে ছড়িয়ে দেবে বলেও হুমকি দেন। আমি সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে তাৎক্ষণিক চুপ থাকি। গত ২৫ জানুয়ারির ঘটনার পর বিষয়টি আমি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করি। মামলা করার পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আমি নানামুখি চাপে আছি। আমাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নিউরোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সবুজকে একাধিকবার ফোন করেও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভুক্তভোগী সহকারী অধ্যাপক আমাদের কাছে এখনো কোনও অভিযোগ করেননি। শনিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করবেন বলে শুনেছি। আমরা বিষয়টি আমালে নিয়েছি। তিনি যদি অভিযোগ না করলেও আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত