বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) র্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল ইসলাম সেমিনার হলে বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
0সেশনে শারীরিক পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। বৈজ্ঞানিক সেশনের সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ-এর ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সেলের সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এ শাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন এর সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
সেমিনারে অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, অধ্যাপক ড. তসলিম উদ্দিন, ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, ডা. মো. গোলাম নবী, ডা. সাব্বির জামান রকি, ডা. ফারজানা খান সোমা প্রমুখসহ উক্ত বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে আহত ইয়াসিন আরাফাত শোনালেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসাসেবায় পঙ্গুত্বের দুয়ার থেকে সুস্থ হয়ে উঠার গল্প। তিনি আগস্টে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে কোমরে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন হুইল চেয়ারে করে। হাঁটার কথা তো দূরের কথা কোনোদিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন সেটাও কল্পনা করতে পারেননি। তবে বিএসএমএমইউ-এর ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সেলের সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এ শাকুর এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা নিয়ে এখন হাঁটতে পারছেন তিনি। সেই বিজয়ের কথা তিনি শুনিয়েছেন। তার বক্তব্যে বিএসএমএমইউ এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুরসহ সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনবার্সন বিষয়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর জানান, বিএসএমএমইউ-এর বিভিন্ন বিভাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ২৯৬ জন রোগীর চিকিৎসা দেওয়া । যার মধ্যে জরুরি বিভাগে ৫৮ জন, কেবিনে ৫৩ জন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১৫২ জন ও অভ্যন্তরীণ বিভাগে ২৪ জন রোগী এবং আইসিউতে ১০ জন রোগী।
অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনবার্সন করা আমাদের পেশাগতসহ সামাজিক, মানবিক, নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব। তারা আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নতুন যুগের, একটি নতুন বাংলাদেশের শুভ সূচনা করেছে। তাদেরকে চিকিৎসাসেবা দিতে পেরে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করছি।
তিনি আরও জানান, এই দিবসের মাধ্যমে শারীরিক পুনর্বাসন চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর আরও উন্নতির জন্য বিভিন্ন গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা হয়। যা রোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে।
