জাপান, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল যে প্রতিযোগিতায় সেখানে কাতার-জর্ডানকে ফাইনালে কল্পনা করা লোকের সংখ্যা একদমই থাকার কথা নয়। কিন্তু একে একে সব বাধা পেরিয়ে আরবের এই দুটি দলই শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে। কাতার অবশ্য গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল। জাপানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গতবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছিল তারা।
২০০৪ সালে জাপানের পর প্রথম ও সব মিলিয়ে পঞ্চম দেশ হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ তাদের সামনে। কাগজে-কলমেও বেশ এগিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে, আর নিজের মাঠে ফাইনাল খেলার বাড়তি সুবিধা তো আছেই। জর্ডান সে তুলনায় একেবারেই আনকোরা। তবে ফাইনালে ওঠার পথে জর্ডান কাগজ-কলমের এমন অনেক হিসাব ভুল প্রমাণ করেছে। শেষ ষোলোতে ইরাক ও সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে আসা জর্ডানের মূল শক্তির জায়গাটা বোঝা যাবে তাদের লেফটব্যাক সালিম-আল-আজালিনের কথা থেকে, ‘আমরা পুরো দল একই হৃদয়, একই আত্মা হয়ে খেলি। এতটাই ঐক্যবদ্ধ আমরা।’
কাতারের স্প্যানিশ কোচ তিনতিন মার্কেজ লোপেজের সামনে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখতে না পারলে সেটা যে তাঁরই বিশাল এক ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হবে, এটাও ভালোই জানেন। নিজেই তাই বলেছেন, ‘স্পেনে একটা কথা আছে, দ্বিতীয় হওয়া মানে হেরে যাওয়াদের মধ্যে প্রথম হওয়া।’
জর্ডান ও কাতারের মধ্যে দেখা হয়েছে এই পর্যন্ত ২৩ বার। কাতার ১২টি জিতেছে, হেরেছে ছয়টি। এই টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগেও দুই দলের দেখা হয়েছিল। জানুয়ারির সেই ম্যাচকে কিন্তু অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারে জর্ডান, ২-১ গোলে যে তারা হারিয়েছিল কাতারকে। রূপকথার দ্বারপ্রান্তে এসে সেই ফলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে অধীর অপেক্ষায় দলটি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ট্রফি উৎসব করতে শেষ মরণ কামড় দিতে মরিয়া কাতার।
১৫ কেজি ওজনের ঝলমলে রূপালি ট্রফিটি কার হাতে শোভা পাবে সে ফয়সালা হয়ে যাবে আজই।
