বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘নতুন অ্যালবামের ৯ গানে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসকে ধারণ করতে চেয়েছি’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম

এবিসি ত্রয়ীর অন্যতম ব্যান্ড ক্রিপটিক ফেইট। ব্যান্ড সংগীতের দ্বিতীয় জেনারেশনকে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম এই ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু ১৯৯৩ সালে। পরের বছরই সাউন্ডটেকের ব্যানারে বাজারে আসে তাদের প্রথম এবং একমাত্র ইংরেজি অ্যালবাম 'এন্ডস আর ফরএভার'। প্রথম অ্যালবামেই নিজেদের জাত চিনিয়ে দিতে সক্ষম হয় ব্যান্ডটি।

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ব্যান্ডটির চতুর্থ অ্যালবাম 'নয় মাস', তৃতীয় অ্যালবাম 'দানব'-এর দেড় যুগ বা ১৮ বছর পর। নতুন অ্যালবাম, ব্যান্ডের নানা বিষয় ও তিন দশকের পথচলা নিয়ে কথা হয় ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,  ফ্রন্টম্যান, ভোকাল ও বেজিস্ট সাকিব চৌধুরীর সঙ্গে।

নতুন অ্যালবামের রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন?
আমাদের একটি নির্দিষ্ট ফ্যানবেজ আছে। যারা নিয়মিত আমাদের গান শোনেন। তাদের কাছ থেকে দারুণ রেসপন্স পাচ্ছি। তারা অ্যপ্রিশিয়েট করছে। তবে আমাদের ভয় ছিল বর্তমানে চারিদিকে 'মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানামুখী ব্যবসা'র সময়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই অ্যালবাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কি-না। আমাদের দেখার ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস নিয়ে ৯টা গান, সেই আবেদন, সেই টান, সেই অনুভূতি কতটা মানুষের ওপর কাজ করে। তবে আমরা লক্ষ করেছি- মানুষ আমাদের এই পরিকল্পনা নিয়ে খুশি এবং আমরাও আনন্দিত।

তিন দশকে চার অ্যালবাম- যথেষ্ট মনে করেন কী?
বিষয়টির দুটি দিক আছে। যদি আমি এটাকে প্রফেশনাল মিউজিশিয়ান ক্যাটাগরিতে ফেলি তবে অবশ্যই এটি একটি ফেইলিয়র। তবে আমরা প্রফেশনাল মিউজিশিয়ান না, আমাদের বিষয়টি আলাদা। আমরা খুব গুরুত্ব নিয়ে মিউজিক করি এবং মিউজিক আমাদের সিরিয়াস হবি বা শখ। আমরা তিনজন ব্যবসা বা চাকরির পাশাপাশি মিউজিক করি। শুধু রাফা (অ্যাভয়েডরাফা সুপ্রিমো রায়েফ আল হাসান রাফা) ফুলটাইম মিউজিশিয়ান। আমরা কাজের ফাঁকে ফাঁকে মিউজিক করি, শুধু ভালোবাসা থেকে। আমার মনে হয় আমরা ঠিক আছি। তবে অনুরাগীদের জন্য খারাপ লাগে। আমরা হয়তো তাদের আরও কিছু দিতে পারতাম। আমরা দিতেও চাই। তবে আশা করি এবং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমরা খুব শিগগিরই আরেকটা অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।

'দানব'-এর পর ১৮ বছর লাগল আপনাদের নতুন অ্যালবাম আসতে। এই যে দেড় যুগের অপেক্ষা- এর ফল কী মিষ্টি হবে আপনাদের শ্রোতা-ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য?
১৮ বছর অনেক লম্বা সময়। অ্যালবাম রিলিজের আগে আমাদের দুটি ভয় ছিল। একটা হলো মানুষ কী আসলেই আমাদের নতুন অ্যালবামের অপেক্ষা করছে, নাকি ভুলে গেছে। আরেকটি হলো নতুন যে গানগুলো দেব সেগুলো কী তাদের কাছে ফ্রেশ মনে হবে? তবে আমাদের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে শ্রোতারা আমাদের গানগুলো ভালোভাবে নিয়েছে। এখানে তাদের দীর্ঘবিরতির অভিমান-রাগ কম, আনন্দ বেশি। আর খুশি হওয়ার আরেকটি কারণ বোধহয় গানগুলো তাদের পছন্দ হয়েছে, পছন্দ না হলে তারা হয়তো এতটা খুশি হতো না।

প্রতিটি অ্যালবামে আপনাদের কিছু টেস্ট কেস থাকে। এই অ্যালাবামেও কী আপনারা এরকম কিছু টেস্ট কেস নিয়ে কাজ করেছেন?
এই অ্যালবামেই আমরা সবচেয়ে বেশি টেস্ট কেস বা ভিন্ন ভিন্ন মিউজিক্যাল জনরা নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের অন্য অ্যালবামগুলো থেকে এটা একেবারেই আলাদা। আমরা সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা, সুর ও সংগীত আয়োজন করেছি এই অ্যালবামটিতেই। আমরা আলাদা আলাদা কনসেপ্ট নিয়ে এই অ্যালবামের গানগুলো সাজিয়েছি। প্রতিটা গানের পৃথক অভিব্যক্তি এবং আলাদা বক্তব্য আছে। আমরা ৯টি গানে একটা ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করেছি। পুরো অ্যালবামজুড়ে ৯ মাসের একটা জার্নি। আমরা এই অ্যালবামটি খুব সিরিয়াসলি করেছি এবং ব্যান্ডের জন্য এটা ছিল ভেরি স্পেশাল প্রজেক্ট।

একটা অ্যালবামের জন্য দেড় যুগ অপেক্ষা, পরের অ্যালবাসমের জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
আশা করি 'নয় মাস' অ্যালবামটি হজম করতে করতেই নতুন অ্যালবাম পেয়ে যাবেন। দিনক্ষণ ঠিক করে বলতে পারছি না। তবে ২০২৫-এর মধ্যেই নতুন অ্যালবাম আসবে বলে আশা করছি।

আপনারা তো অনেক জনরা নিয়ে কাজ করেন। এত জনরা নিয়ে কাজ করার পেছনে অনুপ্রেরণা কী?
আমাদের চার সদস্যের মধ্যে আমি মিউজিক সবচেয়ে কম বুঝি। আমাকে আপনি অজ্ঞ বলতে পারেন। আমার দৌড় হার্ড রক হেভি মেটাল পর্যন্ত। আর বাকিরা সব জনরা ধুয়ে মুছে খেয়ে শেষ। ওরা প্রচুর গান শোনেন, প্রচুর ধরনের গান শোনেন। ওরা মিউজিক্যালি ভেরি রিচ। আমরা যখন গান বানাই তখন ন্যাচারালি এই পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো গানে চলে আসে।

৩০ বছরের পথচলায় ব্যান্ড মিউজিকে আপনাদের কনট্রিবিউশন কতটা?
আমাদের ইচ্ছা ছিল কিছু মিনিংফুল গান করা। আমরা ইতিহাসমের অংশ হতে চাই না। আমরা আমাদের ফিলোসফি ও সততা দিয়ে মিউজিক করতে চেয়েছি। আর বাংলাদেশের মিউজিকে কোনো কনট্রিবিউশন রাখতে পারব- এ বিষয়ে কখনোই কিছু ভাবিনি। আমরা সংগীতপ্রেমীদের জন্য কী রেখে গেলাম, আদৌ কিছু রেখে গেলাম কি-না এসব নিয়ে কখনোই ভাবিনি। আর আমরা এটা মনে করি, এসব ভেবে আর যাই হোক- মিউজিক হয় না।

রাফার যাওয়া, জেফরির আসা
'জেফরি (জেফরি অভিজিৎ ঘোষ) চার বছর ধরে নেমেসিসে লাইভ বাজাচ্ছে। তিনি আমাদের সাথে নতুন ড্রামার হিসেবে জয়েন করেছেন। নেমেসিসে ডিওর জায়গায় ওরা লাইভ পারফরমেন্সের ক্ষেত্রে তাকে দিয়ে বাজাচ্ছিল। আমরা তখন ড্রামার খুঁজছিলাম (কারণ রাফা অ্যাভয়েডরাফা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে)। জেফরি আমাদের সঙ্গে অনেক লাইভ শো বাজিয়েছে। ওর সাথে আমাদের একটা প্লেয়িং আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। আমাদের ইচ্ছা হলো ও আমাদের সাথে পারমানেন্ট বাজাক। কিন্তু আমরা ভাবতাম ও তো নেমেসিসের ড্রামার। পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম ও নেমেসিসের পারমানেন্ট কেউ নন, জাস্ট লাইভ মিউজিশিয়ান। হি ইজ নট দ্য মেম্বার অব দ্য ব্যান্ড, হি ইজ জাস্ট দ্য পার্ট অব লাইভ সেটআপ। তখন আমরা নেমেসিসে আলাপ করলাম। কেননা আমাদের একটা ফুলটাইম ড্রামার দরকার। জেফরি ছিলেন টু মেটাল, তাই তাকে নিয়ে বেশ কনফিউজড ছিলেন নেমেসিসের সদস্যরা। আমরা জেফরির সাথে আলাপ করলাম। তিনি বললেন- তিনি ভীষণ খুশি হবেন যদি তিনি ক্রিপটিক ফেইটের একজন মেম্বার হতে পারেন। তিনি এখন আমাদের পারমানেন্ট মেম্বার। সেই সঙ্গে তিনি নেমেসিসের লাইভ শো গুলোতেও বাজাবেন।'

লাইনআপ
ইরেশ যাকেরকে সামনে রেখে পথচলা শুরু ক্রিপটিক ফেইটের। তার সঙ্গে গিটারে ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান খান ও খাজা সরফরাজ লতিফুল্লাহ। বেজ এবং ভোকালে ছিলেন চৌধুরী ফজলে সাকিব (সাকিব চৌধুরী) আর ড্রামসে ফারশাদ মাহমুদ।

ফারশাদ ক্রিপটিক ফেইটের সঙ্গে কন্টিনিউ করেন টানা ২০ বছর। ২০১৩ সালে তিনি দল ছাড়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ওয়ান অ্যান্ড ওনলি রায়েফ আল হাসান রাফা। ব্যান্ড গঠনের পরের বছরই দল ছাড়েন ইরেশ যাকের, সেই থেকে ভোকাল সামলাচ্ছেন সাকিব চৌধুরী। আর বর্তমান গিটারিস্ট ফারহান সামাদ দলে যোগ দেন ১৯৯৮ সালে।

ব্যান্ডের চতুর্থ অ্যালবাম 'নয় মাস'-এর সব কাজ শেষ করে ২০২৩ সালে ৫ অক্টোবর এক ঘোষণার মাধ্যমে দল ছাড়েন রাফা। এরপর দলে আসেন জেফরি অভিজিৎ ঘোষ।

ব্যান্ডের বর্তমান লাইনআপ সুমন চৌধুরী (ভোকাল, বেজ), খাজা সরফরাজ লতিফুল্লাহ (গিটার), ফারহান সামাদ (গিটার) এবং জেফরি অভিজিৎ ঘোষ (ড্রামস)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত