অনেক চেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আছে যারা আগের মতো না। আমি নব্বইয়ের দশকে আমার বাবাকে দেখেছি, তারা রীতিমতো যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা করতেন, যে আমাদেরকে এটা আদায় করে নিয়ে আসতে হবে। এখন তর্কের জায়গায় অনেক সফট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অনেক সরকারবান্ধব হয়ে গেছে। আমরা যেমন জনবান্ধব না হয়ে ব্যবসায়ীবান্ধব হয়ে গেছি। আর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও কেন জানি সরকারবান্ধব হয়ে গেছে। এ বাক-বিতণ্ডার জায়গাটা থাকতে হবে।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) আয়োজিত ত্রৈমাসিক মধ্যাহ্নভোজের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব আক্ষেপ প্রকাশ করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিমসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জন্য এ মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা। স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা কৃষি, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আগামী মার্চের এক তারিখ থেকে দৃশ্যমান বাজার ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছি। বিশেষ করে, তখন থেকে সব পণ্যের গায়ে শুধু খুচরা মূল্য না, পাইকারি মূল্যও লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষকের মাঠের মূল্য কত, বাজারের মূল্য কত সেগুলো ওয়েবসাইটে যেকোনো নাগরিক দেখে নিতে পারবেন।
হস্তশিল্পের কারিগরদের স্বীকৃতি দিতে এখন থেকে প্রতিটি পণ্যের গায়ে কারিগর, জেলা কিংবা ওই প্রতিষ্ঠানের নাম থাকবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
টিটু বলেন, হস্তশিল্পের কাজ দৃশ্যমানের জন্য কাজ করছি আমরা। আমরা কারিগরকে স্বীকৃতি দিতে চাই, জিআই লোকেশনকে রিকগনাইজ করতে চাই। যারাই হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করবেন। আমি দুটো জিনিস আপনাদের কাছে চাই। আপনি যে পণ্য আপনার শো-রুমে রাখছেন, সেটির অরিজিন কি। বিশেষ করে কোন গ্রামের, কোন উপজেলা, কোন জেলার পণ্য এটির লেখা থাকবে এবং ওই কারিগরের নাম লেখা থাকবে।
তিনি বলেন, যারা এগুলো তৈরি করেন আমরা যদি তাদেরকে শিল্পী না মনে করি তাহলে তারা হারিয়ে যাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণায়ের একটি ম্যান্ডেট হলো মেলা করা। আমরা উপজেলা, জেলা তারপর ঢাকায় করবো। একই সঙ্গে সেগুলো ই-কমার্সের সঙ্গে সংযুক্ত করবো।
টিসিবি নন-ফাংশনাল হয়ে গেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিসিবি এখন নন-ফাংশনাল হয়ে গেছে। তাদেরকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেজন্য আমরা খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী, পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বসবো।
ভোক্তা অধিকারের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ভোক্তা অধিকারকে বলেছি এখন থেকে তারা কোনো বাজারে গেলে সে বাজারের সভাপতির সঙ্গে কথা বলে অভিযান করবে।
এ সময় এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য আমরা অনেক পরামর্শ দিয়েছিলাম। বেশ কিছু দাবি অপূর্ণ রয়ে গেছে। ছোটখাটো সমস্যা বাদ দিয়ে আমাদের আইনগুলো সংস্কার করা দরকার। রপ্তানিতে কমদামি পোশাক থেকে সরে এসে বেশি দামি পোশাকে জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বেশ কিছু সমস্যায় পড়ব। ডব্লিউটিওর আইন অনুযায়ী শুল্ক সুবিধা বাদ পড়বে। সে চিন্তা মাথায় রেখে এখনই নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
