লিওনেল মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের জার্সি গায়ে আর বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামির জার্সিসহ একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছিল এক্সে। ছোট মেসিকে হাত ধরে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছেন বড় মেসি। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, 'স্বপ্নের রাতে'।
মেসির সেই স্বপ্নময় মুহূর্ত ধরা দিয়েছিল আজ সকালে মায়ামির মাঠ ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়ামে। মুখোমুখি হয়েছিল মেসির ‘বর্তমান’ ও ‘অতীত’ দুই ক্লাব। এই প্রীতি ম্যাচ ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়াটাও যেন রূপক—মেসিকে তার ‘বর্তমান’ এবং ‘অতীত’ এর মধ্যে কাউকে হারতে দেখতে হয়নি!
শুধু মেসি নয়, মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনোর জন্যও এই ম্যাচ ছিল পুনর্মিলনীর আবহ। মায়ামির বর্তমান কোচ নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তাদের হয়ে লিগ জিতেছেন তিনবার, কোচ হিসেবেও লিগ জিতিয়েছেন ২০১৩ সালে। ম্যাচের আগে মার্তিনোই জানিয়েছিলেন, নিওয়েলসের অনেক সমর্থক ভিড় জমিয়েছেন ফ্লোরিডায়। ম্যাচটা জমজমাটই হবে!
আর্জেন্টাইন ক্লাবটি অর্ঘ্য দিয়েছে মেসিকেও। এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে খেলার মধ্য দিয়েই তো ক্যারিয়ার শুরু মেসির, পরে ‘রাজা’র আসন পেয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলে। ‘হাই কিং’—লিখে তাই পোস্ট করা হয়েছিল নিওয়েলসের এক্স অ্যাকাউন্টে।
চোটে ভোগা মেসি এই ম্যাচে খেলবেন কি না তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মায়ামি কোচ মার্তিনো অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, মেসিকে একাদশে দেখা যাবে। স্টেডিয়ামের টানেল দিয়ে দলের সঙ্গে মেসি মাঠে নামা মাত্র করতালিতে ভিজিয়েছেন দুই দলের সমর্থকেরাই। ম্যাচের ৬০ মিনিট সময় পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মেসি। গোলের সুযোগও পেয়েছেন বেশ কিছু। ৩১ মিনিটে ভালো জায়গা থেকে শট নেওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। এর ৬ মিনিট পর ফ্রি কিক থেকে বলটা পর্যাপ্ত বাঁকাতে পারলে হয়তো গোল পেতেন। সেটিও হয়নি।
মায়ামি গোল পেয়েছে মেসি উঠে যাওয়ার পর। লুইস সুয়ারেজ, গ্রেসেল এবং তাকে তুলে নিয়ে কাম্পানা, সান্ডারল্যান্ড ও বোরগেলিনকে মাঠে নামান মার্তিনো। মাঠে নামার ৪ মিনিট পরই কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করেন স্নেইডার বোরগেলিন। তবে নিওয়েলস ম্যাচে ফিরতেও বেশি সময় নেয়নি। ৮৩ মিনিটে মায়ামি রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করেন নিওয়েলসের ফ্রাঙ্কো দিয়াজ। মায়ামির সান্ডারল্যান্ড ও সেইলর বল ‘ক্লিয়ার’ করতে পারেননি। এ সুযোগে ১২ গজ দূরত্ব থেকে গোল করতে ভুল হয়নি দিয়াজের।
এটি ছিল এমএলএস প্রাক-মৌসুমে ইন্টার মায়ামির সর্বশেষ ম্যাচ। মৌসুমের প্রস্তুতি পর্বে মোট ৭টি ম্যাচ খেলে ৪টিতে হেরেছে মেসির দল, ড্র করেছে দুটি, জয় অপরটিতে।
