দাদার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রাজধানীর লালবাগে উম্মে হাবিবা সুমা (১৫) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। নিহত সুমা হাজারীবাগ গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত এগারোটার দিকে সুমার দাদা আব্দুল খালেক (৭২) এর মৃত্যু হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয় হাবিবা। স্বজনরা দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত দুইটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার হাসানপুর গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে সুমা। পরিবারের সাথে লালবাগ থানাধিন নবাবগঞ্জ ডুরি আঙ্গুল লেন বড় মসজিদের পিছনের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকত।
তার চাচা মো. রুমন জানান, সুমার দাদা আব্দুল খালেক শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। ঢাকা মেডিকেলেও দীর্ঘ ১৫ দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর গত সপ্তাহে তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সুমাকে খুবই ভালবাসতেন তার দাদা। এজন্য সুমাও তার দাদার অনেক যত্ন নিতো। সময় মত দাদাকে ওষুধ সেবন করানো, খাবার খাইয়ে দেওয়া, গোসল করিয়ে দেওয়ার কাজ নিজেই করতো সুমা। সব সময় দাদার আশপাশে থাকতো সে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তার দাদা আব্দুল খালেক। এরপরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সুমা। দাদার লাশের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। ঘণ্টাখানেক পর সেখান থেকে নিজের রুমে চলে যায় সুমা। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তার রুমে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। তখন তাকে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে সুমা।
দ্রুত তাকে সেখান থেকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, সুমার মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহটি নেওয়ার জন্য লালবাগ থানায় যোগাযোগ করছে।
